ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সা ক্ষা ৎ কা র - অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

 

সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের যে বিশ্বব্যাপি গৃহিত নীতিমালাগুলো আছে, সেগুলো অনুসরন করে বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে চলতে চায়, সাংবাদিকদের মধ্যে যদি অটুট ঐক্য থাকে, তাহলে কোন রাজনৈতিক সংকট গণমাধ্যমে সংকট তৈরি করতে পারবে না।

দৈনিক সংগ্রাম : দেশের সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দেশ ও জনগণের জন্যে কতটা জরুরী মনে করেন?

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : আধুনিক বিশ্বে গণমাধ্যমকে সভ্যতার ব্যারোমিটার হিসেবে ধরা হয়। একটি রাষ্ট্রের যতগুলো স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়, যেমন আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, সংসদ; বিভিন্ন রকম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আছে, গণমাধ্যমেও একটা রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কারণ গণমাধ্যমই কিন্তু জনগণের মনের ভাষা, তার দুঃখ কষ্ট, দেশ, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌম্ব, দেশের গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের কথাই গণমাধ্যম তুলে ধরে। সে কারণে জনগণের স্বাধীনতাটা দেশের জন্য খুব জরুরী, গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে দেশের অখন্ডতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, তার স্বকীয়তা, মাথা উচু করে দাড়াবার জন্য যে সব উপায় উপকরণ প্রয়োজন হয়, গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে একটা দেশ সহজেই তা অর্জন করতে পারে। 

আর গণমাধ্যম যদি পরাধীন হয়ে পড়ে, কোন কর্তৃত্ববাদী সরকারের রোষানলে পড়ে যায়, দেশ পরিচালনায় একটা রাষ্ট্র ও সরকার সেই সেবাটা পায় না। ওটা একতরফা হয়, ফ্যাসিবাদী বা একটা জুলুমতন্ত্রের আজ্ঞাবহ হিসেবে কোন গণমাধ্যম কাজ করে, সেটা একটা স্বাধীন দেশের জন্য মর্যাদা বয়ে আনে না। সেটা কারো কাছে নত হয়ে, নতজানু হয়ে, নিজের স্বকীয়তাকে বিলীন করে দিয়ে হয়তো চলা যায় কিন্তু দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে, স্বাধীন দেশের গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি বা মর্যাদা লাভ করতে পারে না। 

একইভাবে জনগণ: জনগণের ভাষা কী, সেটা রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকেন, যারা প্রশাসনে থাকবেন, বিচার বিভাগে থাকবেন, রাজনীতিবিদ যারা থাকবেন অর্থাৎ সমাজের সবগুলো কী পয়েন্টে যারা থাকবেন, তারা জনগণের ভাষা কীভাবে বুঝবেন? এটা বুঝবার উপায়ও কিন্তু গণমাধ্যম। 

এই কারণেই গণমাধ্যম স্বাধীন থাকা প্রয়োজন। জনগণের মতামত, জনগণের চিন্তুা, এমনকি জনগণকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যও, বিশেষ করে আজকের ভূ-রাজনীতি, বিশ্ব-রাজনীতি, আধিপত্যবাদীদের যেসমস্ত চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, বিশেষত: মুসলিম অধ্যুষিত এই জনপদ বাংলাদেশ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখানে মুসলমান, মুসলিম বিশ্বের চলমান রাজনীতি বুঝতে, মুসলিম বিশ্বের সংকটগুলো, সেক্ষেত্র আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো কী রকম ভূমিকা পালন করছে, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের কোন প্রেক্ষাপটে কী ভূমিকা, এটা গণমাধ্যমই তুলে ধরবে। এটা তুলে ধরতে পারলে জনগণ এটা জানতে পারবে। তখন আমরা দেশকে ভালোবাসতে পারবো, দেশের জন্য ভূমিকা পালন করতে পারবো, আমাদের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, বৈশ্যিকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে হলে জনগণের সামনে তো কিছু খোরাক দিতে হবে। তাদের চিন্তার খোরাক, মুখের ভাষা, দেশ প্রেমের জন্য যে উপায় উপকরণ, সংবাদমাধ্যমই তুলে ধরে। তখন জনগণ সেটা জানতে পারে। সেজন্য আমি বলবো যে, দেশ ও জনগণের জন্য আমাদের গণমাধ্যম স্বাধীন থাকা উচিত। কিন্তু খুব দুর্ভাগ্য হলো, আমাদের দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন নয়। তারা স্বাধীনভাবে কলম চালাতে পারে না। নিকট অতীতের অনেকগুলো ঘটনাই সেটা প্রমাণ হয়েছে যে, আমাদের স্বাধীনভাবে কলম চালাতে গেলে সেখানে ফ্যাসিবাদী হামলা, আক্রমণ, আইন দিয়ে বা আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিভিন্ন সময় সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছেন। সংবাদপত্রের জন্য কঠিন আইন, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রন, নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে সমস্যা তৈরি করা হয়, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।  দেশ ও জনগণের জন্য আমাদের গণমাধ্যম স্বাধীনতা প্রয়োজন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো অতটা স্বাধীন নয়। তবুও যতটুটু, একটা মানুষকে গলাটিপে ধরলে, তখন চিৎকার দিতে পারে, এখন সেইভাবে টিপে ধরা গলার চিৎকার দিয়ে যাচ্ছি। সেই হিসেবে দৈনিক সংগ্রামের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে, আমার ছোট্ট ভাষায় যদি মন্তব্য করতে চাই, দৈনিক সংগ্রামকে সংগ্রাম করেই বেচে থাকতে হবে। সংবাদপত্রের ইথিক্স বা নীতিমালা আছে, আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, সে হিসেবে সংগ্রামের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ নিয়ে চলার জন্য সংগ্রামকে সংগ্রাম করেই চলতে হবে। তার অর্থনৈতিক সংকট আছে,  তার রাজনৈতিক শত্রুতা আছে, সাংস্কৃতিক বিরোধীতা আছে, আর্ন্তজাতিক চক্রান্ত আছে, সব কিছুর বিরুদ্ধে সংগ্রামকে রীতিমতো সংগ্রাম করেই বেচে থাকতে হবে। গণমাধ্যম হিসেবে দৈনিক সংগ্রামের স্বাধীনতার জন্য, সংগ্রামকে জনগণের পাশে যাওয়া, জনগণের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক সংগ্রাম বিকশিত হউক, এটা আমি কামনা করি। 

দৈনিক সংগ্রাম : দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমেও সংকট সৃষ্টি হয়। এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? 

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে যারা, তারা তাদের স্বার্থে অনেক সময় গণমাধ্যমে সংকট তৈরি করে। তারা যদি দেখে এই গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমের ভূমিকা, রাজনৈতিক সংকটের যারা হোতা বা পিছনের কারিগর, যারা এর জন্য দায়ী, গণমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছে, তাদের বিরুদ্ধে লিখছে, রাজনৈতিক সংকট তৈরির পিছনের খবরগুলো নিয়ে আসছে, তখন এটা তাদের সমস্যা মনে করে, এতে তারা জনগণের আদালতে আসামী হবে, দেশের আদালতে আসামী হবে, জনগণের নীতি নৈতিকতা, বিবেক, বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভূমিকা হয়, তখন আমাদের দেশের গণমাধ্যম মুখ খুলতে চেষ্টা করে। তখনই তারা এর উপর খড়গ হস্ত হয়ে পড়ে। এর থেকে বেড়িয়ে আসার উপায় হলো, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা। সংবাদপত্রের মালিক, সাংবাদিক, কর্মকর্তা কর্মচারী, সবাইকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা। সংবাদ মাধ্যম যে সভ্যতার ব্যারোমিটার বা মাপকাঠি হিসেবে দেশ, জাতি, জনগণ ও সরকারের কাজ করে যাচ্ছে, সেই কমিটম্যান্ট নিয়ে তারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে। অন্তত: ন্যূনতম একটা ইস্যু ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তাহলে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ সংবাদ মাধ্যমকে ব্যবহার করতে পারবে না। তখন সংবাদপত্র আর সংকটের মধ্যে পড়বে না। 

কিন্তু দু:ভাগ্যজনকভাবে, আমরা দেখি কোন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে সংবাদপত্রের মধ্যেও সেই প্রভাব দেখা যায়। একটা অংশ খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংকটকে সমর্থন করে, তারা তার পক্ষে লেখে, আর যারা এটা মোকাবেলা করে দেশকে আবার ডেমোক্রেসির দিকে নিতে চায়, তারাও তার পক্ষে লেখে। তাই কখনই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটে বা গণমাধ্যমে যখন সংকট তৈরি হয়েছে, তখন সংবাদ কর্মীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখা যায়। যে কারনে এই সংকটটা জিইয়ে থাকে। 

এ জন্য আমি মনে করি, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের যে বিশ্বব্যাপি গৃহিত নীতিমালাগুলো আছে, সেগুলো অনুসরন করে বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে চলতে চায়, সাংবাদিকদের মধ্যে যদি অটুট ঐক্য থাকে, তাহলে কোন রাজনৈতিক সংকট গণমাধ্যমে সংকট তৈরি করতে পারবে না। 

দৈনিক সংগ্রাম : তথ্য-প্রযুক্তি আইন গণমাধ্যমের মাথার উপর ঝুলন্ত খাড়ার মত। আপনার অভিমত বলন। 

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : আমি বলবো, তথ্য-প্রযুক্তি আইন প্রয়োজন। গণমাধ্যমের যাত্রা পথে অনিয়ম, দেশ বিরোধী, আইন বিরোধী বা রাষ্ট্র বিরোধী, দেশের শান্তি, স্বস্থি, স্বাধীনতা বিরোধী কার্যক্রম থেকে ফিরিয়ে রাখা অথবা কোন গণমাধ্যম যেন এর সাথে সম্পৃক্ত না হয়, এর জন্য একটা আইন দরকার ঠিকই। কিন্তু দেখা যায়, যেভাবে তথ্য প্রযুক্তি আইন করা হয়েছে, মনে হয় সরকারের প্রয়োজনটা, সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটাকে সামনে রেখে করা হয়েছে। কেউ যেন প্রতিবাদ করতে না পারে, নিন্দা করতে না পারে, সরকারের অন্যায়ভাবে, ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকার কর্তৃত্ববাদী যে চেষ্টা, এটার বিরুদ্ধে কেউ একটু লিখলে, কেউ একটু বললে, কেউ কলম চালালে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যই যেন, আইনটা করা হয়েছে। এখানে সংবাদপত্রের যে কোন কল্যাণ আছে বা সাংবাদিকদের যে কল্যাণ আছে, এটা কিন্তু দৃশ্যমান না। এটা মূলতঃ একটা গোষ্ঠী একটা চক্র, সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের কল্যাণের কথা বলে হয়তো করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এতে সংবাদপত্র বা সাংবাদিকদের কোন কল্যাণ আছে বলে আজও দৃশ্যমান হয়নি। 

আমার অভিমত হচ্ছে, যে উদ্দেশ্যের কথা বলে এই আইনটা করা হয়েছে, কার্যত: সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি। কারো কারো সম্পর্ক ভালো না, কোন এমপি, কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখেছে, বা তিনি কাউকে পছন্দ করেন না, তো তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দাও। আইনটাকে কোন কোন সময় ব্যক্তিগত কার্যসিদ্ধির জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেতা ব্যবহার করা হচ্ছেই। মূলতঃ তথ্য প্রযুক্তি আইনকে ক্ষমতাসীনরাই তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। 

দৈনিক সংগ্রাম : দৈনিক সংগ্রামের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সংগ্রামের সাংবাদিক-কর্মচারী ও পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। 

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : আমি আবারো বলবো, সংগ্রামের সাংবাদিক-কর্মচারী ও পাঠকদেরকে, এই দৈনিক সংগ্রাম, তার যে নৈতিক মূল্যবোধ, তার যে আদর্শিক কমিটম্যান্ট নিয়ে এই দীর্ঘ পথে পেড়িয়ে ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন করছে, এই পথ চলায় তাকে অনেক চড়াই উৎড়াই, বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তারা একটা আদর্শিক কমিটম্যান্ট হিসেবে ধরে রেখেছে। এটাকে শুধু মাত্র চাকরী হিসেবে নিয়েছে বলে মনে হয় না, এটা তার দেশ ও জাতির প্রতি, তার মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা। 

সংগ্রামের পাঠকদের কাছে আমরা বলবো, সাংবাদিক কর্মচারীদেরকেও বলবো, সংগ্রামের পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সংগ্রামকে পাঠকের উপযোগী করে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রামের লেখনি, সংবাদ যেভাবে গড়ে তোলা দরকার, দৈনিক সংগ্রামকে সামনের দিনগুলোতে সেভাবে আরো জনগণের পত্রিকা হিসেবে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা করার উনারা যেন তা করতে পারে।  পাঠক উপযোগী সংবাদ, কলাম প্রকাশের মাধ্যমে সংগ্রামকে একটা পাঠক প্রিয় পত্রিকা হিসেবে দেশবাসীর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। 

পাঠকদের জন্য আমার বক্তব্য হচ্ছে, আপনারা সংগ্রাম পড়–ন, সংগ্রামের পাঠক বৃদ্ধি করুন। আমাদের দেশপ্রেম, আমাদের স্বাধীনতা, অখন্ডতা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বকীয়তাকে জাতির সামনে স্বাধীনতার এই লাল সবুজ পতাকাকে সমুন্নত রাখবার একটা চমৎকার মাধ্যম হচ্ছে দৈনিক সংগ্রাম। ফলে সেই সংগ্রামের পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পাঠকদেরও প্রচেষ্টা করতে হবে। পাঠকদেরকে দৈনিক সংগ্রামের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে হবে। যেখানে নৈতিকতার মান রক্ষা করা হয়, আদর্শিক মান সংরক্ষণ করা হয়, হলুদ সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকে, নিজের ক্ষতি মেনে নিয়েও দেশের কোন ক্ষতি বরদাশত করে না। ঝুকি নিয়েও দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশপ্রেমের জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র হলে সংগ্রাম নিজের ক্ষতিকে উপেক্ষা করে আইনের মধ্যে থেকে সংবাদ প্রকাশ করার চেষ্টা করে। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় সংগ্রামকে আক্রান্ত হতে হয়েছে, সংগ্রামের সম্পাদক, সাংবাদিক বারবার কারাবরণ করেছে। এখনও দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদ কারারুদ্ধ আছেন। আমি ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বয়োজেষ্ট সম্পাদক আবুল আসাদের মুক্তি দাবী করছি। সংগ্রাম আক্রান্ত হওয়ার কারনে সংগ্রাম যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, আমি সরকারের কাছে দাবী জানাবো, হামলায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা ও সংগ্রামের ক্ষতিপূরণ দেয়া। 

আমি ধন্যবাদ জানাই, সংগ্রামের সাংবাদিক কর্মচারীদেরকে যে দিন রাতে সংগ্রাম আক্রান্ত হলো, সব কিছু ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলা হলো, এই অবস্থায় কোন পত্রিকা প্রকাশ করা হতে পারে না। সেই সময় সংগ্রামের নিষ্ঠাবান নিবেদিত প্রাণ, প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক কর্মচারীরা রাত জেগে কষ্ট করে, তারা পত্রিকা প্রকাশ করেছেন, এজন্য আমি আমার তরফ থেকে দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক কর্মচারীদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। 

সবার উদ্দেশ্যে আমরা এটাই বক্তব্য, সংগ্রামকে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হবে। স্বাধীনতা ও আধিপত্যবাদী মুসলিম জনতার যে সংগ্রাম, ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র কায়েমের যে চেষ্টা সেই সংগ্রামের পাশাপাশি যেন দৈনিক সংগ্রাম থাকে, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি সংগ্রামের উত্তোরোত্তর অগ্রযাত্রা কামনা করি। চলার পথের সব বাধা বিপত্তি মারিয়ে সংগ্রাম আরো এগিয়ে যাক, সংগ্রাম যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যেন সংগ্রামের এই পথচলা অব্যাহত থাকে। সংগ্রামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে আমার শুভ কামনা। 

 সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন সামছুল আরেফীন

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ