বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সোনারগাঁওয়ে গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতন স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শারীরিক  ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী রওশন আরা জাহান পাষন্ড স্বামী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে সোনারগাঁও থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্যাতিত গৃহবধূকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হয়েছে। সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৫ বছর পূর্বে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামের মৃত সুবেধ আলীর প্রধানের মেয়ে রওশন আরা জাহানের সাথে একই এলাকার মৃত আজগর আলী সরকারের ছেলে মাসুদুর রহমান এর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই স্ত্রীর সাথে প্রায় সময়ই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন চালায় তার স্বামী। তাদের সংসারে একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি  তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গৃহবধূ রওশনকে তার স্বামী অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে রওশন আরা চিৎকার করলে তার ভাসুর মাহবুবুর রহমান সরকার এর সামনে স্বামী মাসুদুর, দেবর মিজানুর, মশিউরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রওশন আরাকে মুখমন্ডল  চেপে ধরে মারাত্মক আঘাত করে আহত করেন। তারা আহত গৃহবধূকে দরজা বন্ধ করে বাইরে তালা দিয়ে রাখে এবং তার ভাইদেরকে  ফোন দিয়ে বাড়িতে এনে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তিনটি ১০০ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল অলিখিত স্ট্যাম্পে  রওশন আরা জাহান ও ভাইদের স্বাক্ষর রেখে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ন্যাশনাল  আইডি কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ঘরে বন্দী করে রাখে। গত পাঁচদিন পর শনিবার সকালে কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় আহত গৃহবধূ। পরে গত শনিবার রাতে গৃহবধূ রওশন আরা বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্বামী মাসুদুর রহমান নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, গৃহবধূকে নির্যাতনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ