মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ হুন্ডি পাচারের অভিযোগ 

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ হুন্ডি পাচারের অভিযোগ উঠেছে। থামছেনা হুন্ডি পাচার। গত ২ বছরে বেনাপোল সীমান্ত  এলাকা দিয়ে ২০ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, ৮ লক্ষ ইউএস ডলার, ৮ লক্ষ রুপি ও ৭০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড জব্দ করেছে বিজিবি, পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। তবে ধারনা করা হচ্ছে পাচার হয়েছে আরও অনেক গুন বেশি। অভিযোগ উঠেছে, বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন বিভাগের অনিয়ম, দুর্র্নীতির সুযোগে শক্তিশালী চক্র, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, পরিবহন কর্মচারী, চেকপোষ্টের লেবার, বৈধ ও অবৈধ মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ী, সি এন্ড এফ কর্মচারী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাধ্যমে সীমান্ত পথে হুন্ডি পাচার হচ্ছে। যে কারনে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হুন্ডির ব্যাপারে কেউ কেউ আটক হলেও পর্দার আড়ালে থেকে যায় চোরাকারবারীরা। সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট ও সীমান্ত জুড়ে ভারতের সাথে ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। আর এ সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব হুন্ডির অর্থ পাচার হয়ে থাকে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব বিবরণী  দিয়ে ভিসা পাওয়া পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারতে যাওয়ার সময় হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ নিয়ে যায়। এ ছাড়া চোরাচালানীরা ভারতের সাথে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট এলাকায় রয়েছে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসার আড়ালেহুন্ডি ও বিভিন্ন চোরাচালানের সাথে জড়িত। সূত্রে জানা গেছে, ২০ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, ৮ লক্ষ ইউএস ডলার, ৮ লক্ষ রুপি ও ৭০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড জব্দ করেছে বিজিবি, পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় অভিযান চালিয়ে ৯৭ জন হুন্ডি পাচারকারী ধরা পড়ে প্রশাসনের হাতে। তবে যারা ধরা পড়ে তার প্রকৃত টাকার মালিক নন। এরা টাকার বিনিময়ে হুন্ডি পাচার করে। আসল ব্যবসায়ীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় হুন্ডি পাচারকারীরা বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করছে। যে কারনে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বন্ধ হচ্ছেনা হুন্ডি পাচার ব্যবসা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর ৪৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল সেলিম রেজা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় হুন্ডি পাচারকারীরা বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিজিবি সতর্ক রয়েছে ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ আধুনিক সরঞ্জম ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ২ বছরে ১৬ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানায় গত ২ বছওে অর্থ পাচার আইনে ৯৭ জনকে আসামী করে ৭১টি মামলা হয়েছে। এ সময় ৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা , ৮ লক্ষ ইউএস ডলার, ৮ লক্ষ রুপি ও ৭০ হাজার ব্রিটিস পাউন্ড জব্দ করা হয়েছে। আর এসব অর্থ পাচার রোধে শার্শা ও বেনাপোল থানাসহ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ