মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফেনীতে তৈরি ভেজাল ঘি যাচ্ছে সারাদেশে

* নকল করা হচ্ছে নামীদামী ব্র্যান্ড

* নেই বিএসটিআই’র অনুমোদন

* বাবুর্চিদের কমিশন দিয়ে বাজারজাত

ফেনী সংবাদদাতা: ফেনীতে বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের ঘি। এসব নকল বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভেজাল ঘি খেয়ে ভোক্তারা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী শহরতলীর লালপোলে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে নকল ঘি শাহী, ভিআইপি, অভি স্পেশাল গাওয়া ঘি কারখানা। বিশাল এ কারখানায় দরজা বন্ধ রেখে তৈরি হওয়া মুখরোচক এসব ঘি। নামীদামী ব্র্যান্ড নকল করা ঘি তে সাবানের ফেনা, জুতার গাম, বিভিন্ন রং ফ্লেভার ও পামওয়েল এবং কেমিকেল দিয়ে তৈরি হয়। কারখানায় কাজ করেন মধুয়াই এলাকার মোফাজল হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ। তারা বাজারজাত করার জন্য টিনের কৌটা তৈরী করা থাকে। ৯শ গ্রাম ওজনের কৌটাগুলো কাটন ভর্তি করে পিকআপে করে ফেনী শহর ও উপজেলার বিভিন্ন বাজার বিক্রি করা হয়। পার্শ্ববর্তী চৌদ্দগ্রাম, বসুরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগে বাজারজাত করা হয়। এসব ভেজাল ঘি বাজারজাত করতে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করা জন্য মার্কেটিংয়ে লোকও নিয়োগ দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভেজাল ঘি প্রতি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতে বিএসটিআই এর ভুয়া লগোও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখও ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে ভেজাল ঘি বিক্রি ও বাজারজাত করণে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন বাবুর্চিরা। বিনিময়ে প্রতি কোটার জন্য পাচ্ছেন ২শ টাকা। এছাড়া ঈদের বোনাস পেয়ে থাকেন। প্রতি বিয়েতে ১০ থেকে ১৫টি ব্যবহার করা হয়। এজন্য বাবুর্চিরা তাদের নিজের নামে খাদ্যের তালিকায় এ ভেজাল ঘি নাম ব্যবহার করছেন। তাকিয়া রোডে হাজী আনিছ বাবুর্চির খাদ্য তালিকায় হোমল্যান্ড ঘি, পূর্ব উকিল পাড়ার মো. পেয়ার আহম্মদ বাবুর্চি খাদ্য তালিকায় রয়েছে শাহী স্পেশাল গাওয়া ঘি, রাণী স্পেশাল গাওয়া ঘি, ভিআইপি ও ডাবর স্পেশাল গাওয়া ঘি। এসব বাবুর্চিরা নিজেদের লাভের জন্য অনুষ্ঠানে এসব ভেজাল ঘি কিনতে ভোক্তাদের বাধ্য করে। যেখানে ৫টি ঘির দরকার সেখানে বাবুর্চিরা ১০টি কেনার জন্য নির্দেশ দেন। হাজী আনিছ বাবুর্চি জানান, এসব ঘি ক্ষতিকর বিষয়টি তার জানা নেই। বিভিন্ন সুবিধা পেয়েই এগুলো কিনতে আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বলে থাকেন। নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার সাহা জানান, ভেজাল ঘি নিয়মিত খেলে ধীরে ধীরে কিডনী অকেজো হবে। এছাড়া যেকোনো বয়সে ব্রেন স্টোক ও হার্ড স্টোক হবার ঝুঁকি রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মোমিন জানান, ভেজাল ঘি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে জেলা প্রশাসনকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: গোলাম জাকারিয়া জানান, ভেজাল প্রতিরোধে শীঘ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ