মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনার অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা 

খুলনা অফিস : স্বল্পমূল্যে চাহিদা সম্পন্ন পণ্য গ্রাহকদের কাছে তুলে দেয়ার প্রতিযোগিতার দৌড়ে প্রথম শ্রেণীতে রয়েছে চীন। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যই বাংলাদেশে সরবরাহ করে দেশটি। তবে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশের ন্যায় খুলনার অর্থনীতিতে বড় হুমকি আসতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ইতোমধ্যেই চীন থেকে সকল পণ্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি আসন্ন দু’টি ঈদকে কেন্দ্র করে পণ্য আমদানির জন্যও কোন ব্যবসায়ী চীনে প্রবেশ করতে পারছেন না। 

খুলনার প্রত্যেকটি বাজারে এখনও দেখা মিলছে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বহাল থাকলে খুব দ্রুতই বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিবে। 

যার প্রভাব পড়বে খুলনার অর্থনৈতিতে। চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বর্তমানে খুলনার বড় একটা বাজারের অর্থনীতি সচল রয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স বাজারের প্রায় বারো আনাই চায়না বাজারের দখলে। হেডফোন, মোবাইল, ব্লু টুথ, চার্জার, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট, এসি, কসমেটিকস, সাইকেল, বাইক, হরেক রকমের খেলনা, গেঞ্জী, জ্যাকেট, ব্যাগ, জুতা, স্যান্ডেল, ল্যাপটপ, ঝাড়বাতি, আসবাবপত্র, ভিডিও গেম, চায়না লেবু, চায়না আদাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটি জিনিসেই রয়েছে চীনের আধিপত্য। 

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সূত্র জানায়, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার চীনের সরকার সেদেশে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। যা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও সেটা বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনে প্রবেশের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ভিসার আবেদন নেয়া বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির পর জানানো হবে কবে থেকে ভিসার আবেদন পুনরায় নেয়া শুরু হবে।

 তাছাড়া চীনে বিশেষ ছুটি ঘোষণা হওয়ায় সকল প্রকার রফতানি বন্ধ রয়েছে। আগামী ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আযহাকে কেন্দ্র করে খুলনার ব্যবসায়ীরা চীনে যেতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে, তারা মনে করছেন, খুব দ্রুত এই সংকট  কেটে যাবে। ততদিন পর্যন্ত গুদামজাত পণ্য দিয়ে খুলনার মার্কেট চললেও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে কি না এমন মন্তব্য এখনই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুলনার অর্থনীতিতে সংকটের সম্ভবনা রয়েছে। এদিকে খুলনার আমদানি ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাস এবং জানুয়ারি মাসে চায়না থেকে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণের অনুপাত এখনই তাদের কাছে নেই। 

খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, তিনি সম্প্রতি চীন থেকে শিশুদের হরেক রকমের খেলনা, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, সাইকেল, বেলুনসহ অত্যাধুনিক ডিজিটাল ইলেকট্রনিক পণ্য এনেছেন। যা বর্তমানে বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। স্টক শেষ হওয়ার আগে চীন থেকে পণ্য আমদানি করতে না পারলে বাজারে সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকবে।

নিউমার্কেট এলাকার বিল্টু জানান, অল্প দামে চায়না টিভি, মোবাইল, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ডিভাইসের চাহিদা অনেক। তার পণ্যের স্টক শেষের দিকে। ফেব্রুয়ারি মাসেই চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের কারণে সব পরিকল্পনা পরিবর্তন করা লাগছে। 

কয়েকজন পাইকারী ব্যবসায়ী জানান, ইতোমধ্যে বাজারে চায়না লেবু, চায়না আদাসহ বিভিন্ন পণ্যের সংকট দেখার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে। যার মূল কারণ করোনা ভাইরাস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ