বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

পাঁচ দিন পর ডিঅ্যান্ডডি খালে মিললো নিখোঁজ শিশু আশামনির লাশ

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর কদমতলীর ডিঅ্যান্ডডি প্রোজেক্টের খালে পড়ে নিখোঁজ শিশু আশামনির (৫) লাশ মিলল পাঁচদিন পর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খালের পানির নিচে জমা আবর্জনার স্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, নিখোঁজের পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তাদের ডুবুরি দল দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শিশুটির লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসাইন জানান, গত চারদিনে খালে জমা আবর্জনা অনেকটা পরিষ্কার করা হয়েছে। আজও আমাদের ডুবুরিরা সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। দুপুরে তাদের একজনের পায়ে মৃতদেহটি আটকায়। 

আশামনি এ বছরই মেরাজনগর ফারহা মডেল স্কুলের শিশুশ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তার বাবা এরশাদ পরিবার নিয়ে কদমতলীর মেহাম্মদবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তিনি ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান চালান। তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে কদমতলী থানাধীন মেরাজনগরে রায়েরবাগ-কদমতলী সড়কের পাশে ডিঅ্যান্ডডি পয়ঃনিষ্কাশন খালের কালভার্টের ওপর আরও কয়েকটি শিশুর সঙ্গে খেলছিল আশামনি। এক পর্যায়ে তাদের বল খালে পড়ে ভাসমান আবর্জনায় আটকে গেলে আশামনি সেটা তুলতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নজমুজ্জামান জানান, সেদিন থেকেই তাদের দুটি ইউনিট ওই খাল থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টায় তল্লাশি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রচ- নোংরা পানিতে জমে থাকা আবর্জনার কারণে কাজে সমস্যা হচ্ছিল।    

পুরো খাল ময়লায় পূর্ণ। মাঝে মাঝে ময়লার স্তর এমন হয়ে রয়েছে যে মনে হবে নিচে পানি নেই। কিন্তু কেউ পা দিলে তলিয়ে যাবে। শিশুটিও ওইভাবে তলিয়ে যায়। ময়লার কারণেই তাকে খুঁজে পেতে এত সময় লাগলো। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল।

আশামনিকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি আরও জোরদার করার দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেনা সদস্যরাও সেদিন তল্লাশি অভিযানে যোগ দেন। স্থানীয় কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক শ্রমিক দিয়ে ময়লা সরানোর ব্যবস্থা নেন। ফারুক নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই এলাকাটি বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। আগে ছিল শ্যামপুর ইউনিয়ন, তাই অবহেলিত ছিল। বর্তমানে  ডিঅ্যান্ডডি খাল সংস্কারের কাজ চলছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ