বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মাহমুদুল হাসানের সেঞ্চুরিতে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম মিঞা : প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। গতকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ দল ৬ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড যুব ক্রিকেট দলকে। আইসিসি’র কোনো আসরে এটিই বাংলাদেশর প্রথম কোনো ফাইনাল। চার বছর আগে প্রথমমবার ঘরের মাটিতে যুব বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার স্বাদ পেয়েছিল টাইগার যুবারা। কিউইদের দেয়া ২১২ রানের লক্ষ্য ৪ উইকেটের খরচায় ৩৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেন টাইগার যুবারা। প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে হারিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। ফলে ৯ ফেব্রুয়ারি যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত। গতকাল পচেফস্ট্রমে টস হেরে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ৮ উইকেটে করে ২১১ রান। জয়ের জন্য ২১২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল ৪৪.১ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৫ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ৬ উইকেটে। ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩২ রানে দুই ওপেনারকে হারায় যুব দল। তবে শুরুর ধাক্কা কাটায় তৌহিদ হৃদয় ও মাহমুদুল জয়ের দুর্দান্ত এক জুটিতে। তারা ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন স্বপ্নের ফাইনালে দিকেই। দলকে কক্ষপথে রেখে বিদায় নিতে হয়েছে হৃদয়কে। আউট হওয়ার আগে হৃদয় দলকে পৌছে দেন ১০০ রানে। তার ৪৭ বলের ৪০ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। হৃদয় আউট হলে শাহাদাতকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদুল হাসান জয়। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২০১ রানে। চতুর্থ উইকেটে দলকে জয়ের পথ দেখান মাহমুদুল হাসান জয় ও শাহাদাত হোসেন। নিয়মিত বাউন্ডারির পাশাপাশি সিঙ্গেলস ও ডাবলসে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন তারা। বিপর্যয়ে পড়া দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন তিনি। সেমিফাইনালে খেললেন দুর্দান্ত ইনিংস। ৭৭ বলে প্রথম ফিফটি পেয়েছেন মাহমুদুুল। ফিফটির পরও হাসছে তার ব্যাট। সেঞ্চুরি করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। ১২৬ বলে ১৩ বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি করে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদুল হাসান। শাহাদাত হোসেন ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের তোপে রান তুলতে হিমশিম খেয়েছে কিউইরা। এমনকি ১৪২ রানে যখন ষষ্ঠ উইকেট পড়ল, ততক্ষণে ৪২তম ওভারের ৪ বল শেষ। এরপর ৪২ রান যোগ হতেই যায় আরও ২ উইকেট। এর মাঝে কিউইদের হয়ে ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন নিকোলাস লিডস্টোন। তবে এজন্য ৭৪ বল খেলতে হয়েছে তাকে। শেষদিকে কিছুটা ঝড় তুলে কিউইদের রান ২০০ পার করতে বড় ভূমিকা রাখেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হুইলার-গ্রিনাল। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ৮৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস। এর মধ্যে আছে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার। বল হাতে বাংলাদেশের যুবাদের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট গেছে শামিম হোসেন ও হাসান মুরাদের ঝুলিতে। বাকি উইকেট রাকিবুল হাসানের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ