শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গ্রাম্য ব্যাঙের ঢাকা ভ্রমণ 

সুমাইয়া সাদিকা  : ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলছে যান্ত্রিক বাহন। উদ্দেশ্য ঢাকা টু বি-বাড়িয়া। আম্মুর তাগিদে প্রায় বছরখানেক পর যাওয়া হচ্ছে নানুবাড়ি। খুশিতে মন আটখানা। গাড়ি যতই সামনের দিকে এগুচ্ছে ততই নানুবাড়ির স্মৃতিগুলো হৃদয়ের মণিকোঠায় উঁকি দিচ্ছে।  নানুবাড়ির বেশ মজাদার ও আনন্দময় একটি স্মৃতি।

তখন বয়স সাত কিবা আট। মাদ্রাসার ছুটিতে ছুটে এলাম নানুবাড়ি। তখন অনেক দিন থাকা হয়েছিল। ইতি নামের সমবয়সী একটা বান্ধবীও হয়েছিল। যদিও সম্পর্কের দিক থেকে আমার খালামণি কিন্তু নাম ধরেই ডাকা হতো।

ঢাকায় আসার আগের সন্ধ্যায় সে আমাকে বললো চলো বাহিরে যাই! আমিও রাজি হয়ে গেলাম। কাল ভোরে ঢাকায় চলে যাবো তাই বাড়ির আশেপাশে দুইজন গোমড়া মুখে হাতেহাত রেখে হাঁটছিলাম। চারপাশ নিস্তব্ধ তবে ব্যাঙের আওয়াজ আর লাফালাফি দেখা যাচ্ছিল। কৌতূহলি হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম-

কিসের ডাক?

ইতি : ব্যাঙের।

আমি : আমি নিবো, আমাকে ধরে দাও।

ইতি : সত্যিই নিবে ?!

আমি : হাসিমুখে হ্যাঁ আমি কালকে ঢাকায় নিয়ে যাবো।

ইতি : ঠিক আছে।

তারপর সে একটি পলিথিন নিয়ে ব্যাঙ ধরার চেষ্টায় লেগে গেল। আমি প্রফুল্লচিত্তে অনুরাগী হয়ে দেখছিলাম। সে পলিথিন দিয়ে চেঁপে ধরে একটি ব্যাঙ আবরুদ্ধ করে ফেললো। খুব সাদরে আমার হাতে পলিথিনটি তুলে দিল। ভিতরে ব্যাঙটি মুক্তি পাওয়ার জন্য লাফাচ্ছে, সাথে সাথে আমার মনটাও, তবে আমি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার খুশিতে। 

 

আমি : আরেকটা ধরে দাও না!

ইতি : আরেকটা?!

আমি : হ্যাঁ দাওনা, দাওনা!

ইতি : আচ্ছা।

আরেকটা পলিথিন জোগাড় করে ব্যাঙ ধরায় মনোযোগী হলো কিন্তু নাহ পারেনি!

আমি : বিষন্ন মনে আচ্ছা! আর লাগবে নাহ।

ইতি : বাসায় চলো। না হয় বকা দিবে। আর কাউকে কিন্তু বলবে না আমি ব্যাঙ ধরে দিয়েছি, নইলে কিন্তু নিতে দিবে না।

আমি : আচ্ছা।

তারপর বাসায় গিয়ে ইতি ব্যাঙের পলিথিনটিকে হালকা ফুঁটো করে হাস-মুরগীর ঘরের নিচে রেখে দিল।

সেদিন রাতে যতক্ষণ ঘুম আসেনি ততক্ষণ ব্যাঙের চিন্তায় উতলা ছিলাম।

অবশেষে সবার চক্ষুর আড়ালে ব্যাঙটাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। এক্ষেত্রে ইতির বিরাট অবদান ছিল। সে ব্যাঙটিকে কিভাবে ব্যাগে ঢুকাতে হবে  তারপর ব্যাগের চেইন হালকা খুলে রাখতে  হবে, কাপড়ের উপরে রাখতে হবে, না হয় মরে যাবে এসব বুদ্ধি দিয়েছিল।

গাড়িতে ঘুমুতে ঘুমুতে এসেছি কিন্তু যতবার জেগেছি ততবার ব্যাঙের জন্য দোয়া করেছি আল্লাহ ব্যাঙটা যেন না মরে। 

পরিশেষে বাসায় এসে আম্মুকে সারপ্রাইজ দিলাম! আম্মু তো দেখে আঁতকে উঠেছিল। হাসবে নাকি কাঁদবে নাকি বকবে কিছুই বুঝছে না শুধু দেখছে যে, গ্রাম্য ব্যাঙকে শহরে ভ্রমণ করিয়েছি। 

আমি : আম্মু! ব্যাঙটাকে পালবো।

আম্মু সব ঘটনা শোনার পর আদুরে বকা দিয়ে বলল, এখনি ছেড়ে দিতে হবে। পরে আম্মু ব্যাঙটাকে ছেড়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন। তবে পরিতাপ করল, ব্যাঙকে পরিবার হারা করলাম তাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ