বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে টটেনহ্যাম

দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হেয়াং-মিনের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে সাউদাম্পটনকে নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ গোলে পরাজিত করে এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ড নিশ্চিত করেছে টটেনহ্যাম। চতুর্থ রাউন্ডের রিপ্লেতে দলের এই জয়কে সৌভাগ্য হিসেবেই অভিহিত করেছেন স্পার্স বস হোসে মরিনহো। ম্যাচের ১২ মিনিটে ডিফেন্ডার জ্যাক স্টিফেন্সের আত্মঘাতি গোলে নিজেদের মাঠে এগিয়ে গিয়েছিল টটেনহ্যাম। তবে প্রথমার্ধের ৩৪ মিনিটে শেন লং ও দ্বিতীয়ার্ধে ৭২ মিনিটে ড্যানি ইনগিসের দুই গোলে সাউদাম্পটন ম্যাচে এগিয়ে যায়।

 ছয় মিনিটের মধ্যে অবশ্য ম্যাচে সমতা ফেরান লুকাস মৌরা। ৮৭ মিনিটে সন পেনাল্টি থেকে দলকে দারুন এক জয় উপহার দেন। ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেছেন, ‘সত্যি বলতে কি আজ একটি সেরা দল বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আমার দল সবদিক থেকে তাদেরকে প্রতিরোধ করেছে। এই জয়ে আমাদের বেশ কষ্ট হয়েছে। কিন্তু যোগ্যতা অনুযায়ী এই জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। সাউদাম্পটন আমাদের থেকে বেশী উজ্জীবিত ছিল। কিন্তু আমরা সব কিছু দিয়ে এই জয় ছিনিয়ে এনেছি।’ ১৯৯১ সালে সর্বশেষ এফএ কাপের শিরোপা জিতেছিল টটেনহ্যাম। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে পঞ্চম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ ধুকতে থাকা নরউইচ। চলতি মৌসুমে শুরুতে মরিসিও পোচেত্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন মরিনহো। স্পার্সদের দায়িত্ব নিয়েই তার মূল লক্ষ্য ছিল নিজের অধীনে দলকে একটি শিরোপা উপহার দেয়া। ২০০৭ সালে চেলসির হয়ে সর্বশেষ তিনি এফএ কাপে শিরোপা জিতেছিলেন। একেবারে নিজস্ব স্টাইল দিয়ে খেলোয়াড় থেকে মরিনহো এই জয় আদায় করে নিয়েছেন। এ সম্পর্কে মরিনহো বলেন, ‘আমি মনে করি এই জয়ে আমারও অবদান আছে। কারন বেশ কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে আজ এই অবস্থানে টটেনহ্যামকে নিয়ে এসেছি। আমাদের প্রথম লক্ষ্যই হলো টিকে থাকা। দলে নানাবিধ সমস্যা আছে। আমি শুধুমাত্র হ্যারি কেনের কথা বলছি না। 

একইসাথে গিওভানি লো সেলসো, এরিন লামেলার ইনজুরির বিষয়টিও এখানে জড়িত। আজকের দলটি সম্পূর্ণই ভারসাম্যহীন ছিল। এটাকে গোছাতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে।’ ২০০৮ সালে লিগ কাপের পর এ পর্যন্ত কোন ধরনের শিরোপা জয় করতে পারেনি টটেনহ্যাম। মরিনহো সেই শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠারই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার দলের কাছ থেকে সেই ধরনের উল্লেখযোগ্য কোন পারফরমেন্স এখনো লক্ষ্য করা যায়নি। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে শেষ নয়টি হোম ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই জয়ী হয়েছে স্পার্সরা। এর মধ্যে এবারের প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের শুরুতে ২-১ গোলের জয়টিও রয়েছে। টানগে এডোম্বেলের শক্তিশালী শট স্টিফেন্সেরে গায়ে লেগে জালে জড়ালে ১২ মিনিটেই এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। জেমস ওয়ার্ড-প্রাউসের নিখুঁত পাস থেকে ইন-ফর্ম স্ট্রাইকার ইনগিস হুগো লোরিসকে পরাস্ত করতে পারেননি। ৩৪ মিনিটে অবশ্য আর কোন ভুল করেননি লং। ন্যাথান রেডমন্ডের সহায়তায় লং দলের পক্ষে সমতা ফেরান। বিরিতর ঠিক আগে সিসেগননের একটি কঠিন চ্যালেঞ্জে হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ত্যাগে বাধ্য হন সাউদাম্পটন মিডফিল্ডার ওয়ার্ড-প্রাউস। ৭২ মিনিটে রেডমন্ডের পাস থেকে ইনগিস ১৮ গজ দুর থেকে দারুন ফিনিশিংয়ে সাউদাম্পটনকে এগিয়ে দেন। মৌসুমে এটি তার ১৭তম গোল। কিন্তু ৭৮ মিনিটে ডেলে আলি পাস থেকে লুকাস টটেনহ্যামের আশা জাগিয়ে তুলেন। ৮৭ মিনিটে সফরকারী গোলরক্ষক আনগাস গানের বিপক্ষে পেনাল্টি আদায় করে নেন সন। স্পট কিক থেকে শেষ পর্যন্ত স্পার্সদের স্বস্তির জয় উপহার দেন এই দক্ষিণ কোরিয়ান স্ট্রাইকার। ইন্টারনেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ