বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পরাজয়ের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই-------------মুমিনুল 

স্পোর্টস রিপোর্টার : আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে সফরকারী বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ।  টেস্টে টানা পরাজয়ের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। পাকিস্তান সফরকারী বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোমিনুল হক বলেন, স্বাগতিক দলের  বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া তার দল। তিনি গতকালরাওয়ালপিন্ডিতে সাংবাদিকদের বলেন,‘ আমরা একটি জায়গায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেটি হচ্ছে পরাজয়ের ধারা থেকে বেরিয়ে আসা। সে জন্য আমরা সম্পুর্ন প্রস্তুত। আমরা ভাল প্রস্তুতি নিয়েছি। সবকিছু বিবেচনায় এনে আসন্ন ম্যাচটি নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন,‘ বিদেশের মাটিতে আমরা খুব একটা ভাল করতে পারছি না।

 এখান থেকেই আমরা সেই ধারার পরিবর্তন ঘটাতে চাই। আমাদের বিশ্বাস ভাল ক্রিকেট খেলে  লক্ষ্য পুরণে সক্ষম হব।’ ২০১৯ সাল থেকেই পরাজয়ের গন্ডিতে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং ভারতের কাছে একের পর এক টেস্ট হেরেছে টাইগাররা। এমনকি পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়ে নয়টিতেই পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাকী ম্যাচটিতে ড্র করেছে।

 তবে মোমিনুল বলেন,‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে প্রতিটি ম্যচই সবগুলো দলের জন্য গুরুত্বপুর্ন। আমাদের কাছেও গুরুত্বপুর্ন।’ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহনের পর এখনো পর্যন্ত কোন টেস্টে জয়ের দেখা পাননি টাইগার কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি ঘটেছে বাংলাদেশের। দুই ম্যাচেই টাইগাররা হেরেছে ইনিংস ব্যাবধানে। তবে ওই সিরিজে বাংলাদেশ দলে ছিলেননা ওপেনার তামিম ইকবাল। কুচকির ইনজুরির কারণে ভারত সফর থেকে বিরত ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সফরে তামিমের অন্তর্ভুক্তিতে কিছুটা হলে শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে টাইগারদের। সাইফ হোসেনকে সঙ্গী করে তিনিই বাংলাদেশ দলের ওপেনিংয়ে নামবেন। তবে নিরাপত্তার শংকায় মুশফিকুর রহিম দল থেকে নাম প্রত্যাহার করায় টাইগারদের ব্যাটিং ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। মুশফিকুরের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের উইকেট সামলানোর দায়িত্ব পালন করবেন লিটন দাস। দলের ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন এসেছে। 

গুরুত্বপুর্ন তিন নম্বরে ব্যাটিং  করবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিং লাইনআপে এর পরে রয়েছেন যথাক্রমে মোমিনুল হক, মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এবার পাকিস্তানে কি হবে? পাকিস্তানিরা কিন্তু এখন টেস্টে আহামরি কোন দল নয়। ব্যাটিং আর  বোলিং দুটো'র একটিও বিশ্বমানের নয়। আজহার আলী, আসাদ শফিক, আবিদ আলী আর বাবর আজমের মত ভালমানের ব্যাটসম্যান আছেন। কিন্তু তারা কেউই বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পূজারারদন মতো টেস্টে ধারাবাহিক নন। মোহাম্মদ আব্বাস, নাসিম শাহ, শাহিন আফ্রিদি আর ইয়াসির শাহরাও ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামিদের মতো সময়ের অন্যতম সেরা ও বিধ্বংসী বোলার নন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মত অত হাই কোয়ালিটি অফস্পিনারও  নেই পাকিস্তান দলে। অনেকেরই ধারণা, ভারতের সামনে দাঁড়াতে না পারলেও পাকিস্তানের সাথে টেস্টে ভাল কিছু হলেও হতে পারে। 

আশার কথা, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের ভাবনাও অনেকটা তেমনই।  মুমিনুল হক বলেন,‘আমরা দেশের মাটিতে ভাল খেলতে না পারার অপবাদ ঘুচাতে চাই। দেখাতে চাই আমাদেরও সামর্থ্য আছে ভাল খেলার, বিদেশের মাটিতে টেস্ট জেতার। এ সত্য প্রমাণ  দেয়ার এখনই সময়। তাই অতীতের না পারার ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে এবার রাওয়ালপিন্ডি থেকেই নতুন ইতিহাস রচনার দৃঢ় সংকল্প আমাদের।’ মুমিনুল হক অকপটে স্বীকার করেছেন, তার দল দেশের বাইরে টেস্টে ভাল খেলতে পারে না। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘দেশের বাইরে আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড তেমন ভাল না। বিদেশে কখনই আমরা খুব বেশি ভাল খেলতে পারিনি। পারিও না।’ 

দেশের বাইরে ব্যর্থতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল বলেন,‘আসলে একদিন না একদিন এই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। এভাবে ক্রমাগত বাইরে গিয়ে হেরে দেশে ফেরা ও ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করতে থাকলে তো আর চলবে না। একসময় ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে সাফল্য  পেতেই হবে। জয়ের পথ খুঁজে বের করতেই হবে। না হয় অতলে তলিয়ে যেতে হবে। তাই আমরা এখান (রাওয়ালপিন্ডি) থেকে সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। 

বিদেশের মাটিতে জিততে না পারার অপবাদ ঘুচাতে চাই।’ পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে আমরা এসেছি ক্রিকেট খেলতে। আমরা ভাল ক্রিকেট খেলতে চাই। আর নিরাপত্তা নিয়ে কোনোরকম অভিযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সব ভালই আছে। আমরা খুশি। হসপিটালিটি খুব চমৎকার।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ