শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অনিচ্ছা সৌদীর

৬ ফেব্রুয়ারি, ডন : কাশ্মীর সংকট নিয়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের অনুরোধ গ্রহণ করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। গত বুধবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানা গেছে। জেদ্দায় ওআইসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয়েছিল। মূলত সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের (সিএফএম) প্রস্তুতির জন্যই ছিল এ বৈঠক। কাজেই সিএফএমের বৈঠক নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতায় ওআইসির সঙ্গে ইসলামাবাদের অস্বস্তি ক্রমে বাড়ছে। কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির নীরবতার ঘটনায় মালয়েশিয়া সফরে একটি থিংকট্যাংকের আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো প্রতিবাদ নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তিতে ভরপুর। কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির বৈঠকেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না।

গত আগস্টে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করে নেয় মোদি সরকার। রাজ্যটির সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালায় ভারতীয় বাহিনী।

এর পর ৫৭ মুসলমান দেশের এই সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান। যদিও তখন থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে কাশ্মীরবিষয়ক কনট্যাক্ট গ্রুপের একটি বৈঠক হয়েছিল এবং উপত্যকাটিতে নিপীড়নের ঘটনায় ওআইসির স্বাধীন স্থায়ী মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনও পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের বিষয়টি আর সামনে এগোয়নি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জন্য সিএফএমের বৈঠকের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরাইশি। তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে একটি পরিষ্কার বার্তা পাঠানো দরকার ছিল।

ওআইসির যে কোনো উদ্যোগের জন্য সৌদি আরবের সমর্থন অপরিহার্য। কারণ জাতিসংঘের পরেই দ্বিতীয় বৃহৎ এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিতে সৌদি ও উপসাগরীয় দেশগুলোই আধিপত্য বিস্তার করছে।

একটি সূত্র জানায়, ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এড়িয়ে যেতে পাকিস্তানকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। যার মধ্যে মুসলিম দেশগুলোর পার্লামেন্টারি ফোরাম, স্পিকারদের কনফারেন্স ও কাশ্মীর-ফিলিস্তিন ইস্যুতে একটি যৌথ বৈঠকের কথা রয়েছে।

কিন্তু ইসলামাবাদ বলছে, অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে স্পিকারদের বৈঠকই তাতে যথেষ্ট না। এ ছাড়া ইরানকে আঘাত করতে স্পিকারদের ফোরামকে সৌদি আরব ব্যবহার করতে পারে বলে পাকিস্তানের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ সৌদি সুরা কাউন্সিলের স্পিকার ড. আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন ইব্রাহীম বিন শেখ এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সমকক্ষদের সঙ্গে লবিং করেছেন বলে জানা গেছে।

কাশ্মীরকে ভারত দখল করে নেয়ার ঘটনা তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ইরান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। উপত্যকাটিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায়ও এসব দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া একই বৈঠকে ফিলিস্তিনি ইস্যুর সঙ্গে কাশ্মীরকে মিলিয়ে ফেলায়ও সমস্যা রয়েছে বলে মনে করে পাকিস্তান। এতে কাশ্মীর ইস্যুটি কম গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

যদিও কুয়ালালামপুর সম্মেলনে পাকিস্তানের অনুপস্থিতিতে ওয়াইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তাব নিয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে রিয়াদ।

ডিসেম্বরে ইসলামাবাদ সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরাইশির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত সিএফএমের বিষয়ে সমর্থন দেয়ার আভাস দিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান।

রিয়াদের আপত্তির মুখে কুয়ালালামপুর সম্মেলন থেকে দূরে থাকায় পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু সৌদি নমনীয়তা খুব বেশি একটা সময় স্থির ছিল না। কাশ্মীর ইস্যুতে সিএমএফের বৈঠকের সমর্থন থেকে দ্রুতই তারা সরে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ