শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চীনে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হলো ৮৯২ রোগী

৬ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ৮৯২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

চীনের সবগুলো প্রদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ। হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে তারা। এখন পর্যন্ত ৫৬৩ জন এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন তাদের প্রাত্যহিক প্রতিবেদনে জানায়, সুস্থ হয়ে উঠায় মঙ্গলবার ২৬২ জনকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে দেখা যায়। এদের ১২৫ জন হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের।  এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই ৭০ জন। ২ সপ্তাহ ধরে এই প্রদেশ পুরো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চীনের বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। একজন ফিলিপাইন ও একজন হংকংয়ের। তারা প্রত্যেকেই চীনের উহান প্রদেশ থেকে এসেছিলো। উহানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।  

করোনা মোকাবিলায় দরকার ৬৭ কোটি

৫০ লাখ ডলার: ডব্লিউএইচও

চীন থেকে উদ্ভূত আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসের বিশ্বজুড়ে বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই ভাইরাস প্রতিরোধে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে।

চীনের সবগুলো প্রদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ। হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে তারা। এখন পর্যন্ত ৫৬৩ জন এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন।

করোনা প্রতিরোধের তহবিল প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস জানান, বহু দেশেই করোনা ভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতি নাই। এটাই তার কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তহবিল বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাদের সেবা নিশ্চিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ঠেকাতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।’

ভাইরাসের ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোতে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনা; প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের শনাক্ত, অন্যদের থেকে আলাদা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; গুরুতর ঝুঁকি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনা, প্রাণীদের মধ্যে থেকে ভাইরাসটির বিস্তার কমানো এবং অজানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।  

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়িয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২৮ হাজার।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বুধবার আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে, তাতে চীনের মূলভূখ-েই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। অধিকাংশ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনাই ঘটেছে হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে।

ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল বলে বিবেচিত হুবেই প্রদেশে ভাইরাসটিতে বুধবার আরও ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ২৯৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।  মৃত ও নতুন করে আক্রান্তের যে সংখ্যা চীনের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে তার ৮০ শতাংশেরও বেশি এ প্রদেশটিতে ঘটেছে। দেশটির বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলো উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হেইলংজিয়াংয়ের তিয়ানজিন শহর ও গুইঝৌ প্রদেশে ঘটেছে।

ট্রেন স্টেশন ও বিমানবন্দরের পাশাপাশি রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দেয়ায় চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। প্রথমে এই প্রদেশেই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল। প্রাদেশিক রাজধানী উহানের একটি সিফুড মার্কেট থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। 

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ফিলিপিন্সে এবং চীন শাসিত হংকংয়ের আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনেই উহান থেকে ঘুরে আসার পর আক্রান্ত হন। 

ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত যে ৫৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ৪০০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে উহানে। 

উহান থেকে কয়েক হাজার বিদেশিকে সরিয়ে নেওয়ার পর তাদের নিজ নিজ দেশে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ও হংকং বন্দরে দুটি প্রমোদতরীর কয়েক হাজার যাত্রী ও ক্রুকে পর্যবেক্ষণের জন্য জাহাজেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

ইয়োকোহামা বন্দরে পৃথক অবস্থায় রাখা প্রমোদতরীটির আরও ১০ যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে বলে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদের নিয়ে প্রমোদতরীটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে হংকংয়ের ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রমোদতরীটিতে ভ্রমণ করে যাওয়ার পর তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর থেকে জাহাজটির প্রায় ৩৭০০ আরোহীকে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ পৃথক অবস্থায় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

হংকংয়ে নোঙর করা প্রমোদতরীটির তিন জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ৩৬০০ যাত্রী ও ক্রুকে জাহাজেই অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে প্রত্যেককে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ