শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সুবিধা পাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

এইচ এম আকতার : চীনে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা। চীনে এই ভাইরাস আক্রান্তের ফলে সারা বিশ্বই সস্তা ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে বঞ্চিত হবে। এর ফলে সারা বিশ্বে বেড়ে যাবে এসব পণ্যের মূল্য। করোনা ভাইরাসে তৈরি পোশাকসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই চীনা প্রযুক্তি ও সস্তা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই ভাইরাস দেশটিতে কতটা সংক্রমণ ছড়ায় এবং এর প্রভাব কতটা দীর্ঘ হয় তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। তবে নদীর ভাঙা-গড়ার মতোই চীনের যেখানে ক্ষতির সম্ভাবনা তা নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বিভিন্ন দেশে। এমনকি বাংলাদেশেও  তৈরি পোশাক শিল্পে সে সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, চীনের করোনা ভাইরাস চীনের অর্থনীতিকে ক্ষতি করলেও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকরা এর একটা সুবিধা নিতে পারেন। তিনি বলেন, বিশ্বে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ চীন। করোনা ভাইরাসের কারণে সেখানকার পোশাক অন্যান্য দেশে যাচ্ছে না। কারণ, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানকার তৈরি পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যেসব দেশে বা বাজারে চীনের তৈরি পোশাক যাচ্ছে না সেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক স্থান করে নিতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে এখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।
বিশ্বব্যাংক ধারণা করছে যে, মহামারি থেকে আক্রান্ত ৯০% অর্থনৈতিক ক্ষতি মানুষের অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করার ভয় থেকেই আসে, যার ফলে অফিস আদালত ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।  চীনের অবস্থা এখন এমনই হয়েছে বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন,  করোনা ভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারেন। তিনি মনে করেন ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ অনেক দেশের তৈরি পোশাকের অর্ডার চীনের বদলে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারেন। আর যদি অর্ডার বাংলাদেশে আসে, তাহলে এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদই বয়ে আনবে। এতে আমাদের রফতানিতেও একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  তবে এই ভাইরাস চীনের বাইরেও যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে গোটা বিশ্ব অর্থনীতি তছনছ হয়ে যাবে। কেননা, চীন এখন এমন বৃহৎ অর্থনৈতিক পরাশক্তির একটি দেশ, যার সঙ্গে সব দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের তৈরি পোশাক রফতানিতে শীর্ষ দেশ এখনও চীন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনের সঙ্গে আমাদের দেশীয় বাণিজ্যে কিছুটা সমস্যা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তা আমাদের রফতানি খাতের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। চীনের অর্ডার আমাদের দেশে আসার মাধ্যমে আমাদের রফতানি খাত আবার চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। তবে দেশে কোনোভাবেই যাতে করোনা ভাইরাস আসতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।
চীনে করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ সুবিধা পেতে পারে  এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকও। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে চীনের কিছু অর্ডার ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশেও স্থানান্তরিত হয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো হলে কিছু অর্ডার বাংলাদেশেও চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা লাভবান হবো।
এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যমতে, রফতানি আয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪২তম দেশ। আর তৈরি পোশাকই বাংলাদেশের রফতানি আয়ের এখনও মূল শক্তি, বৈশ্বিক বাজারে যার অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনাম পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে উদীয়মান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ছয় মাস ধরে রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) এক হাজার ৯৩০ কোটি ২২ লাখ (১৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। আর গত ছয় মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ কম আয় হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ