বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভোটারদের হতাশা দূর করতে হবে

বাংলাদেশের মানুষ তো ভোটপাগল, গণতন্ত্রপাগল। কিন্তু সেই মানুষগুলোই ভোটের প্রতি এতটা অনীহা প্রকাশ করলো কেন? ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর আমাদের ভোটব্যবস্থা আবার নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়লো। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মোট ভোটারের মাত্র ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশের সমর্থন পেয়ে বসতে যাচ্ছেন মেয়রের চেয়ারে। আর ঢাকা দক্ষিণে মোট ভোটারের ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশের সমর্থন নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস। উল্লেখ্য যে, ভোট দেয়ার হার উত্তরে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং দক্ষিণে ২৯ শতাংশ। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার কমসংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থী।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর মানুষ কেমন যেন চুপ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের ভাবনার জগৎ কিন্তু থেমে নেই। নানা কথা সেখানে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ভোটের প্রতি এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হতে থাকে। বিভিন্ন নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও জবরদখলের ঘটনায় নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকরা ভোটের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আরও কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন মানুষ এখন গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়ে কিছুটা উদাসীন বা প্রত্যাশাবিহীন হয়ে পড়েছেন। ভোটের ফল নিয়ে সাধারণ মানুষের খুব বেশি মাথা ব্যথা নেই। কারণ এখানে তাদের পাওয়ারও কিছু নেই। তাছাড়া মানুষ হয়তো কোনো ঝামেলায়ও জড়াতে চান না। ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই এখন মানুষের কাছে প্রধান। বলা যায়, আস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই মানুষ গণতন্ত্রবিমুখ হয়ে পড়ছেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দীন খানও। তিনি বলেছেন, ভোটের প্রতি আগ্রহ কমার কারণ মানুষ মনে করছেন তার ভোট দেয়া-না দেয়া সমান। বিগত জাতীয় নির্বাচন দেখে মানুষ প্রচণ্ড হতাশ। তিনি মনে করেন, ৫০ শতাংশ ভোট না পড়লে নতুন করে ভোট করতে হবে, এমন বিধান রেখে আইন সংস্কার করা দরকার।
আমরা মনে করি, গণতন্ত্র ও নির্বাচনের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতি ও ভোটের ব্যাপারে জনগণের অনীহা প্রকাশ জাতির জন্য বড় দুঃসংবাদ। এই পরিস্থিতি দূর করার ক্ষেত্রে সঙ্গত ভূমিকা পালন করতে হবে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনীতিবিদদের। এ ক্ষেত্রে ব্লেমগেম মোটেও কাম্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ