শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করছেন ট্রাম্প

২৮ জানুয়ারি, রয়র্টাস:  বহুল আলোচিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী দলীয় নেতা বেনি গান্তজের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে পরিকল্পনা প্রকাশ্যে পেশ করতে চান তিনি। সোমবার ওই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ফিলিস্তিনিরা তার এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ঐতিহাসিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরাইল-ঘেঁষা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এর পরে ইসরাইলের সঙ্গে আর কোনও শান্তি আলোচনায় মার্কিন মধ্যস্ততা মানবে না বলে ঘোষণা দেয় ফিলিস্তিনিরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বারবারই ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি বা শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামে পরিচিত একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জারেড কুশনার এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন অংশ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসলেও যুক্তরাষ্ট্র তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিরা প্রথমে এই পরিকল্পনা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। প্রথমে তারা এটা চাইবে না। আমি মনে করি সবশেষ তারা এটাই চাইবে....। তবে এতে তাদের লাভ হবে। বাস্তবে তাদের জন্য এটা খুবই ভাল। তাই আমরা দেখবো কী ঘটছে। তাদের ছাড়া শান্তি পরিকল্পনা চুক্তি করতে পারবো না। আমি মনে করি, এটা চাওয়ার এটাই খুব ভাল সুযোগ।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটা একটা মহান পরিকল্পনা। সত্যিকারভাবে কাজে লাগানোর মতো একটি পরিকল্পনা এটা।’ এই পরিকল্পনা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা সীমিত পরিসরে আলোচনা করেছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা সংক্ষিপ্তভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে নির্দিষ্ট সময় পর আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজায় স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার ফিলিস্তিনিদের আশা গুঁড়িয়ে দেবে। তারা বলছেন, ফিলিস্তিনিদেরকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আর ফিলিস্তিনিদেরকে ছাড়া কোনও শান্তি পরিকল্পনাই ফলপ্রসূ হতে পারে না।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচ ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছেন। এখন তিনি সিনেটে অভিশংসন বিচারের মুখে আছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশে দুর্নীতির অভিযোগ এবং জাতীয় নির্বাচনের মুখে আছেন। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু দুইজনই ভুল কোনও কিছু করার কথা অস্বীকার করেছেন। আর এখন সিনেটে ইমপিচমেন্ট তদন্তের কারণে চাপের মুখে পড়েও ওই শান্তি পরিকল্পনা দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বৈঠকের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ বলেছেন, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে এ শান্তি পরিকল্পনাকে কাজে লাগাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করছি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এতে জড়িত না হওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের মূলভিত্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছাড়া এটি আর কিছুই নয়।’ ট্রাম্প গত বছরই তার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দু’বার জোট সরকার গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ