সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে সতর্কতা জারি

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নিউমোনিয়া সদৃশ নতুন ভাইরাস ‘করোনাভাইরাস’। গত বছরের ডিসেম্বরে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে এপথে ভারত থেকে আসা বিদেশি নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আজ আইরিশ ১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৪ জন, কানাডার ২ ও আমেরিকার ১ জন সহ মোট ৮ বিদেশিকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য বিভাগের ডাঃ হাসানুজ্জামান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে একটি নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। ভাইরাসটি চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি মাছের বাজার থেকে ছড়িয়েছে। জেনেটিক সিকুয়েন্স পরীক্ষা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসটি ভয়াবহ সার্স ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪১ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মজিদ জানান, চীনে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা গেছেন। বাংলাদেশে এ ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। তারা বিদেশি যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া এ ভাইরাসের লক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন করছেন।
এ ভাইরাসগুলো জুনোটিক, আর এ ভাইরাসের সংক্রমণে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে- যা থেকে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর রোগ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। চীন থেকে বাংলাদেশে আসা সব যাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রবেশের অনুমতি দিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরাধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোরশেদ আলম জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে কোনো ভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদেরকে সহযোগিতা করছেন ইমিগ্রেশন পুলিশ।
উল্লেখ্য জটিল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত চীনে মারা গেছেন ১৮ জনের বেশি। ইতিমধ্যে ভাইরাস ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। চীনে থাকা ভারতীয়রাও ভুগছেন ভাইরাসটিতে। যেহেতু বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে চীনসহ আক্রান্ত দেশের নাগরিকরা প্রচুর পরিমাণে যাতায়াত করে তাই বাংলাদেশেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ