সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

পরাজয় দিয়েই সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : পাকিস্তান সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাজয় দিয়েই শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজি শুরু করেছে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। টস জিতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ১৪২ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দিরয়েই মাঠ ছাড়েন। ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের রানের খাতায় রান যোগ হওয়ার আইে শফিউলের শিকার হয়ে ফেরেন অধিনায়ক বাবর আজম। এরপর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ। আহসান আলীর সঙ্গে জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে হাফিজ ১৭ রানে ফিরলে ভাঙে ৩৫ রানের জুটি। পাওয়ার প্লে'তে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তানের হাল ধরেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক এবং অভিষিক্ত আহসান আলী। এই দুই ব্যাটসম্যানের উপর ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তবে ইনিংসের ১২তম ওভারে আহসান আলীকে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে ফেরান আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এর আগে মালিক আর আহসান মিলে গড়েন ৪৬ রানের জুটি। আহসান ফিরলে উইকেটে আসেন ইফতেখার আহমেদ। তার সঙ্গে নতুন করে জুটি গড়েন উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখা শোয়েব মালিক। ইফতেখারের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটি গড়েন মালিক। এবার জুটি ভাঙার দায়িত্ব নেন শফিউল। ১৬ রানে ইফতেখারকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন শফিউল। পাকিস্তানের দলীয় ১১৭ রানে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে ইমাদ ওয়াসিমের উইকেট তুলে নিলে কেবল হারের ব্যবধানটাই কমাতে পারেন আল-আমিন হোসেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দু'টি উইকেট নেন শফিউল ইসলাম। ৪ ওভারে ২৭ রান খরচ করেন শফিউল। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন এবং আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে দেন ৪০ রান। আল-আমিন ৪ ওভারে খরচ করেন ১৮ আর বিপ্লব দেন ২৮ রান। এর আগে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল এবং মোহাম্মদ নাইম শুরুটা ভালোই করেন। দু'জনে মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তামিমকে। আর তাতেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তামিমের ফেরার পর উইকেটে আসেন লিটন দাস। নাইমকে সঙ্গী করে সচল রাখেন রানের চাকা। ইনিংসের ১৫তম ওভারে এই দুই সেট ব্যাটসম্যান পরপর আউট হলে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা। ১৫তম ওভারের ৩য় বলে রান আউট হয়ে লিটন দাস ফেরেন ১২ রান করে। ঠিক পরের বলেই শাদাব খানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ইফতেখার আহমেদের তালুবন্দি হন নাইম। প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার আগে নাইম করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান। এরপর আফিফকে সঙ্গী করে দলীয় রান শতক পার করেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে ইনিংস বেশি বড় করতে পারেননি আফিফ। হ্যারিস রউফের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে ১০ বলে ৯ রান করেন তিনি। এরপর উইকেটে আসেন সৌম্য সরকার। বড় ইনিংসের দেখা পাননি তিনিও। ১৯তম ওভারে শাহিন শাহ্ আফ্রিদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করেন মাত্র ৭ রান। তিনি ফেরেন দলীয় ১২৮ রানে। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক রিয়াদের ব্যাটে ভর করে ১৪১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১৪ বলে ১৯ রান। আর ৩ বলে ৫ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন। পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট তুলে নেন হ্যারিস রউফ, শাদাব খান এবং শাহিন শাহ্ আফ্রিদি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে ২৫ এবং ২৭ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে সিরিজের বাকি দুইটি টি-টোয়েন্টি। সিরিজ শেষে আগামী ২৮ জানুয়ারি দেশে ফিরবে টিম বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪১/৫ (তামিম ৩৯, নাঈম ৪৩, লিটন ১২, মাহমুদউল্লাহ ১৯ অপ, আফিফ ৯, সৌম্য ৭, মিঠুন ৫অপ; ইমাদ ৩-০-১৫-০, আফ্রিদি ৪-০-২৩-১, হাসনাইন ৪-০-৩৬-০, রউফ ৪-০-৩২-১, মালিক ১-০-৬-০, শাদাব ৪-০-২৬-১)
পাকিস্তান: ১৯.৩ ওভারে ১৪২/৫ (বাবর ০, এহসান ৩৬, হাফিজ ১৭, মালিক ৫৮অপ, ইফতিখার ১৬, ইমাদ ৬, রিজওয়ান ৫অপ; শফিউল ৪-০-২৭-২, মোস্তাফিজ ৪-০-৪০-১, আল আমিন ৪-০-১৮-১, সৌম্য ২.৩-০-২২-০, আমিনুল ৪-০-২৮-১, আফিফ ১-০-৬-০)
ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শোয়েব মালিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ