বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার আ’লীগ নেতা এনু দুদকের মামলায় রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার: ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনুকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের হেফাজতে (রিমান্ড) নেয়ার অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। 

আদালতের পেশকার ফয়েজ আহমেদ জানান, শুনানির সময় এনুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী সাইদুর রহমান মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন মীর আহাম্মেদ আলী সালাম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন। 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে এনু জ্ঞাতআয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নিজ নামে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা হারুনুর রশীদ ও ওয়ারীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ পরস্পর যোগসাজশে যথাক্রমে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে এনুকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। ওই সম্পদ এনু নিজেদের দখলে রেখেছেন। এনুর অবৈধ সম্পদের বর্তমান অবস্থা, সম্পদ কাকে কী উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আরো কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে সোমবার ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় একটি দশতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ টাকাসহ ওই এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক এনু ছিলেন গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়ায় প্রথমে এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুকভর্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিন্দুকে পাওয়া ওই টাকার উৎস ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো। টাকা রাখতে জায়গা বেশি লাগে বলে কিছু অংশ দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন এনামুল। 

ওই ঘটনার পর মোট সাতটি মামলা করা হয়, যার মধ্যে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা ও অর্থ-পাচারের অভিযোগে চারটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। ওই তিনজনকে গ্রেফতারের পর সিআইডি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারের ‘হোতা’ ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এনু ও রুপন। মামলার তদন্তকারীরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে ২২টি বাড়ি ও জমি এবং পাঁচটি যানবাহনের সন্ধান পেয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ