বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

পে স্লিপ পাওয়ার এক সপ্তাহ পরও মজুরি পায়নি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা

খুলনা অফিস : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের হাতে জাতীয় মজুরি কমিশন অনুযায়ী গত ১৬ জানুয়ারি পে স্লিপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ স্লিপ অনুযায়ী নতুন মজুরির টাকা এখনও হাতে পাননি তারা। কবে নাগাদ এ মজুরি হাতে পাবেন সে বিষয়ে শ্রমিকরা নিশ্চিত হতে পারছেন না। ফলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারছেন না।
শ্রমিকরা বলছেন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের স্লিপ দিয়ে তো আর পেট চলবে না। এ টাকা হাতে পাওয়া লাগবে। কিন্তু তা কবে পওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছেন তারা।
শ্রমিক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, পে স্লিপ হাতে পেয়ে খুবই সন্তুষ্ট ও উজ্জীবিত ছিলাম। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দু’মুঠো খেতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা জেগেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল, টাকা পাওয়ার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আগের ৮ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পাওয়ারও কোনও পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পে স্লিপ দিয়ে আর কী কাজ হবে।
পাটকল শ্রমিক নেতা মুরাদ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী টাকা ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত এ মজুরি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবির আন্দোলন সফল হলেও সে কমিশন অনুযায়ী মজুরি হাতে না পাওয়ার কারণে শ্রমিকরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।’
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন-বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, ‘মজুরি কমিশনের দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পে স্লিপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ স্লিপ অনুযায়ী কবে নাগাদ টাকা দেওয়া সম্ভব হবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সরকার টাকা ছাড় করার পর তা শ্রমিকদের দেওয়া সম্ভব হতে পারে।’
বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সূত্র জানা গেছে, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ২৮ নবেম্বর খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত আলিম জুট মিলে ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করতে হয়।
কিন্তু নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি এ মিলে সেই মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে কার্পেটিং জুট মিলে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা, ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৮১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, দৌলতপুর জুট মিলে ৫ লাখ ৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইস্টার্ণ জুট মিলে ২০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জেজেআইতে ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭৪ লাখ টাকা, খালিশপুর জুট মিলে ২৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭০ লাখ টাকা, প্লাটিনাম জুট মিলে ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং স্টার জুট মিলে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।
অপরদিকে, ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের সময় (কার্যকর) দেখানো হয়েছে। সে অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। যদিও এ হিসাব এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
বিজেএমসি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, খুলনা ও যশোরের ৯টি জুট মিলে শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ ৩০ কোটি ৬০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া মিলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বাবদ বকেয়া রয়েছে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সবমিলে মোট বকেয়ার পরিমাণ ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, ‘করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের ১৬ জানুয়ারি মজুরির প্রথম স্লিপ দেওয়া হয়েছে। নতুন মজুরি স্কেল অনুযায়ী শ্রমিকদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মজুরি বেড়েছে।’
বিজেএমসি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে পে-কমিশনের সঙ্গে মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ঘোষিত মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে হয়। সাড়ে ৪ বছর আন্দোলনের পর শ্রমিকদের আমরণ অনশনের মধ্যদিয়ে সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে অন্যতম মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ