বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

আজ খান এ সবুরের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ২৫ জানুয়ারি শনিবার তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের লিডার অব দ্য হাউজ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপমহাদেশের কিংবদন্তী পার্লামেন্টারিয়ান, সুপরিচিত রাজনীতিবিদ খান এ সবুরের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালল ১৪ আগস্ট দেশ বিভাগের পরও যখন বর্তমান খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জের কিছু অংশ হিন্দুস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল তখন সবুর খান হুলিয়া মাথায় নিয়ে বাউন্ডারি কমিশনে আপিলের মাধ্যমে এ অঞ্চল পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখেন। তার একক প্রচেষ্টায় ১৭ আগস্ট বিকালে রেডিও ইন্ডিয়াতে ঘোষণা করা হয় যে, এ অঞ্চল পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যারই ধারাবাহিকতায় এ বিশাল অঞ্চল পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। মূল্যায়নের মাপকাঠিতে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে খান এ সবুরের সবচাইতে বড় সাফল্য। তিনি ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালীন খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খুলনা শিল্পাঞ্চল গঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে খান এ সবুর একাই তিনটি আসনে (খুলনা, সাতক্ষীআ ও তেরখাদা) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ৩ আসনে বিজয়ের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আজন্ম ত্যাগ খান এ সবুর মৃত্যুর পূর্বে তার কোটি কোটি টাকার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মানুষের কল্যাণৈ দান করে শিক্ষা, ধর্ম অন্যান্য জনহিতকর কাজের জন্য “খান এ সবুর ট্রাস্ট” গঠন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তার ঢাকার বাসভবনটিতে এখন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হলে তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের মানুষের নিকট  সাহেব নামে সুপরিচিত এ মহান নেতা ১৯৮২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে দাফন করা হয়।
এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলের পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম। দলের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া মরহুমের জন্মভূমি ফকিরহাটের আট্টাকা গ্রামে পারিবারিক আয়োজনে কুলখানীসহ খুলনা শহরে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ