শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দেড় হাজার গ্রাহকের জন্য একজন লাইনম্যান

 

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা আরইবি পল্লী বিদ্যুত হিসাবে এর পরিচিতি বেশি। এখানের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ। গ্রামগঞ্জে এসব গ্রাহক। ঝড় বৃষ্টি কিংবা নানা কারণে এখানে প্রায়ই বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা হয়ে থাকে। ফলে লাইনম্যানদের থাকতে হয় সব সময় কাজের মধ্যে।

গ্রাহকের সেবা নিরবচ্ছিন্ন ও ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার জন্য সব থেকে বেশি সক্রিয় থাকেন লাইনম্যানরা। সংস্থায় লাইনম্যান আছেন ১৮ হাজার। প্রতি ১ হাজার ৫০০ গ্রাহকের জন্য লাইনম্যান ১ জন। 

আরইবি কেন্দ্রীয় অফিস থেকে প্রতিটি সমিতিকে সংযোগের জন্য মাস ও বছরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয়। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দায়িত্ব জেলার সমিতি প্রধান বা জিএমের। বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাজ করেন লাইনম্যানরা। কম ভোল্টেজের সমস্যা ও ক্ষমতার বেশি সংযোগ দেয়ার কারণে ট্রান্সফরমারের ফিউজ কেটে যায় অথবা বিস্ফোরণ ঘটে। এসব ঘটনা দিন বা রাতে যখনই ঘটুক, মেরামতে ডাক পড়ে লাইনম্যানদের। এতে একজন লাইনম্যান মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। তাঁদের ছুটি কম। ঝুঁকি ভাতা কম। ২৪ ঘণ্টা কাজে থাকলেও ওভারটাইম কম। 

ভুক্তভোগী লাইনম্যানরা বলছেন, হাতে রবারের গ্লাভস ও পায়ে রবারের বুট পরে লাইন মেরামতের কাজ করার নিয়ম থাকলেও এসব সরঞ্জাম পরে কাজ করা হয় না। কারণ, এসব সরঞ্জাম পরে কাজ করতে হলে দিনে সর্বোচ্চ ৬-৭টি নতুন সংযোগ বা নষ্ট সংযোগ মেরামত করা যায়। একজন লাইনম্যানকে দিনে ১০ থেকে ১৫টি সংযোগ নিয়ে কাজ করতে হয়। কাজের সময় তাঁরা গ্লাভস বা বুট পরেন না। এটাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। প্রতি মাসে নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে হাতে-কলমে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ হয় না। 

১১ মাস আগে আরইবির ময়মনসিংহ সমিতিতে সুইচরুমে কর্মরত ছিলেন পলক। অভিযোগ আছে, তাঁকে জোর করে পাঠানো হয় ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের একটি সমস্যা ঠিক করতে। পলক পানির ভেতর ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যান পলক।

অভিযোগ করলে শাস্তি

শ্রম আইন অনুযায়ী আরইবিতে ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা নেই। কিন্তু আরইবিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অপরাধে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে। 

বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইনম্যান পদে কাজ করতেন আউয়াল হোসেন। ট্রেড ইউনিয়ন করার অভিযোগে প্রথম ঢাকায় কেন্দ্রীয় অফিসে পরে ২০১৬ সালেতে ঠাকুরগাঁও সমিতিতে বদলি করা হয়। আউয়াল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি বরগুনা সদরে। ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে আমাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, আরইবিতে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া বা পঙ্গু হওয়া সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও মৃত্যুর পেছনে যাঁদের গাফিলতি রয়েছে, তাঁদের শাস্তির মুখোমুখি আনা গেলে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ