বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তপুর ইচ্ছে

শওকত আলী : তপু সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। তাই তার লেখা-পড়ার অনেক ছাপ। স্কুলের সকল পড়া শিখার পর তার ঘুমাতে প্রতিদিন প্রায় রাত বারোটা কি এর বেশি হয়। সে আবার সকালে ঘুম থেকে খুব তাড়াতাড়ি উঠে যায়। তপু সকালের নির্মল স্বচ্ছ হিমেল হাওয়ায় গা মেলিয়ে দাড়ানো, পূব দিকে সূর্য উদিত হওয়া, এবং পাখিরা খাদ্যের জন্য নিড় ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্যগুলো দেখতে খুব ভালোবাসে। তাই তপু প্রতিদিন তাদের বাসার ছাদের উপর দাঁড়িয়ে এ সব কিছু উপভোগ করে। তপুর ইচ্ছে সে শহর ছেড়ে গ্রামে তার দাদুর বাড়িতে গিয়ে এ সব প্রাকৃতিক দৃশ্য আরও কাছ থেকে উপভোগ করবে। কিন্তু কিভাবে যাবে! এখন তো তার স্কুল বন্ধনা!

হঠাৎ একদিন তপুর ছোট বোন ‘কনা’ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কনাকে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদের পরামর্শ দেই ‘কনা’-কে কিছুদিন গ্রামীণ পরিবেশে রাখার জন্য। এতে তার রোগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই তপুর বাবা কনার রুগ ভালো হওয়া পর্যন্ত গ্রামে থাকার সিদ্ধান্ত নেই। এমন সিদ্ধান্তে তপু খুবি আনন্দিত হয় কারণ তার ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে। 

তপুদের পরিবার দু’একদিনের মধ্যে গ্রামে চলে যায়। এখন তপুর লেখা পড়া বন্ধ, ঘুরাঘুরি ছাড়া তপুর আর কোন কাজ নেই। কিছুদিন যেতে না যেতে গ্রামের ছেলেদের সাথে তপুর বন্ধুত্ব হয়ে উঠে। এখন তাদের সাথে চলাফেরা তপুর। এভাবে বহুদিন কেটে গেলো কিন্তু তাঁর বোন কনার রুগ এখনো ভালো হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পরিবারের সবাই খুবই চিন্তিত। এতো কিছুর মধ্যেও তপু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখেন এবং সবুজ ঘাসে খালি পায়ে পায়চারি করে এতে তপু খুবি আনন্দ হয়। 

প্রতি দিনের নিযায় তপু একদিন সকালে রাস্তায় পায়চারি করছিল এমন সময় একটি টাকার ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে। তপু ব্যাগটি থুলে নিয়ে দেখল ব্যাগে অনেকগুলো টাকা এবং কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ। তপু প্রথমে  টাকাগুলো নিজে নিয়ে কাগজগুলো মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে করে। তাই তপু পুরো ব্যাগ চেক করলে একটি পকেটে মালিকের ঠিকানা পায়, এতে মালিকের মোবাইল নাম্বারও লেখা আছে। তাই তপুর ব্যাগের মালিককে খুঁজতে কষ্ট হলো না। প্রথমে তপুর মনে খারাপ ইচ্ছে হলে-ও, হঠাৎ তপুর মনে এলো এ টাকা গুলো যদি কোন গরীব লোকের হয় তা হলে সে অনেক কষ্ট পাবে। তাই তপু ব্যাগে মালিককে ব্যাগে থাকা সকল টাকা ও কাগজগুলো ফিরিয়ে দেয়। তপুর মতো এমন কিশোরের আচরণে লোকটি খুবি আনন্দিত হয় এবং তার জন্য মঙ্গলের দোয়া করেন। লোকটি চলে যায়।

এখনো পর্যন্ত তপুর বোন কনার রোগ ভালো হয়নি। তাই বাড়ির সবাই খুবই চিন্তিত। তপু একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন তার জীবনের সকল সততার বিনিময়ে হলেও তার বোন কনা রোগ ভালো করে দেন। সৃষ্টিকর্তা তার মনের ইচ্ছে পূরণ করেন এবং কিছুদিনের মধ্যে তপুর বোন কনা সুস্থ হয়ে উঠে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ