শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

কুষ্টিয়ার মোকামে ফের বেড়েছে চালের দাম

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : চাষিদের ধানের দাম না বাড়লেও কুষ্টিয়ার মোকামে ফের বেড়েছে চালের দাম । মাসখানেক কুষ্টিয়ায় খাজানগর মোকামে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকার পর ফের বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। চিকন চাল কেজিতে এক টাকা ও মোটা সব ধরনের চালে কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। আমন মৌসুম চলাকালে এ নিয়ে দুই দফা দাম বাড়ালেন মিল মালিকরা। মিল গেটে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। এতে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের চালের খরচ কিছুটা বাড়ল। দাম বাড়লেও বাজার মনিটরিং করতে দেখা যায়নি এখন পর্যন্ত।
খাজানগর মোকামের একাধিক মিল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের দাম বাড়ার কারণে মাসখানেক আগে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের বাজার কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেড়েছিল। ধানের বাজার বাড়ায় নতুন করে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। মিনিকেট চাল কেজিতে এক টাকা ও মোটা সব ধরনের চাল কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত মিল গেটে দাম বেড়েছে। ধানের বাজার বাড়লে চালের বাজার সমন্বয় করতেই এ দাম বাড়ানো হয় বলে জানান তারা।
লিয়াকত রাইস মিলের মালিক হাজি লিয়াকত হোসেন বলেন, 'ধানের বাজার প্রতি মণে ৫০ টাকা বেড়েছে। সেই কারণে চালের দাম মিল গেটে বেড়েছে। সর“ জাতের মিনিকেট চাল ২৫ কেজির প্রতি বস্তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১২০ টাকা থেকে এক হাজার ১৩০ টাকা। সেই হিসাবে ৫০ কেজির বস্তার দাম হচ্ছে দুই হাজার ২৬০ টাকা। প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪৫ টাকা ২০ পয়সা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা। কোথাও আরও বেশি। এ ছাড়া কাজললতা ৩৬ টাকা, আটাশ ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা ও মোটা জাতের স্বার্ণ ২৭ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মিলগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ধানের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় মিলমালিকরা এখন ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বেশি ধান কিনে স্টক করে চাল তৈরির পর বাজারে ছাড়লে দাম পাওয়া যাবে। তবে সরকার যেকোনো সময় বাইরে থেকে কম দামে আমদানির সুযোগ দিলে তখন দেশি চাল বিক্রি কমে যেতে পারে। তখন লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এ কারণে অটো চালকল মালিকরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। তারা প্রতিদিন ধান সংগ্রহ করছেন। যে দামে ধান কিনছেন সেই অনুপাতে উৎপাদন করে বাজারে চাল ছাড়ছেন।’
এছাড়া গত বছর মিলগুলোতে অভিযানের পর থেকে মিলমালিকরা দৃশ্যমান গোডাউনগুলোতে ধান রাখছেন না। অনেক মিলমালিক অন্য জেলায় তাদের যেসব গোডাউন রয়েছে সেখানে ধান মজুদ করছেন।
মিয়া ভাই রাইস মিলের মালিক ও চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, 'বাসমতি, মিনিকেট, কাজললতা ও স্বর্ণা ধানের দাম প্রতি মণে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। সেই কারণে চালের বাজার সমন্বয় করা হয়েছে। কেজিতে দেড় থেকে দুই টাকা বেড়েছে চালের বাজার।'
খাজানগর মোকামে মিনিকেট চাল মিল গেটে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৪৩ থেকে সাড়ে ৪৩ টাকায়। একই ভাবে কাজললতা ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা, আটাশ ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা এবং স্বর্ণা ২৪ থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৭ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হ”েছ।
এক মাস আগে আমন মৌসুম চলাকালেও এক দফা চালের বাজার বেড়ে যায়। সে সময় এখনকার বাজার থেকে চালের বাজার আরও কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কম ছিল।
এদিকে খাজানগর মোকামে চালের দাম বাড়লেও মনিটরিং টিমকে এখন পর্যন্ত কোনো মিলে অভিযান চালাতে দেখা যায়নি। মনিটরিং জোরদার করা হলে বাজার স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি দামও কমে আসবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ