মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ইরানি হামলার কথা আগেই জানতো মার্কিন সেনারা

মার্কিন সেনাদের অবস্থান নেয়া আল আসাদ বিমানবাহিনীর একটি  বাঙ্কার

১২ জানুয়ারি, সিএনএন:  ইরাকের আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা শুরুর আগেই মার্কিন সেনারা জানতে পারে। গত বুধবার (৩ জানুয়ারি) ইরান হামলা চালাবে জানতে পারলেও তার প্রকৃতি কেমন হবে সেসম্পর্কে ধারণা ছিলো না তাদের। সেকারণে হামলা শুরুর  আড়াই ঘণ্টা আগে বিমানঘাঁটির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান নেয় সেনারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিনিধি ওই বিমানঘাঁটি ঘুরে এসে ইরানি হামলার ভয়াবহতার বিবরণ দিয়েছেন।

গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় ইরাকের আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে আঘাত করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম ধাপে চারটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের আড়াইঘণ্টা আগে রাত ১১টার মধ্যেই বেশিরভাগ সেনা হয় বাঙ্কারে অবস্থান নেয়, নয়তো ঘাঁটির বাইরে বেরিয়ে যায়।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার চরম প্রতিশোধ হিসেবে চালানো ওই ইরানি হামলা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আল আসাদ বিমানঘাঁটির যেসব এলাকায় মার্কিন সেনা অবস্থান রয়েছে শুধুমাত্র সেসব স্থানেই হামলা চালানো হয়। ঘাঁটিটির এক চতুর্থাংশ এলাকায় মার্কিন সেনাদের অবস্থান রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাঙ্কারের মাত্র কয়েক মিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সময়েও কোনও কোনও জরুরি কর্মী বাইরে থেকে গিয়েছিল। তারপরেও ইরানি হামলায় কেউ হতাহত না হওয়াটা এক আশ্চর্য ঘটনা।

আরবের এক কূটনীতিক সিএনএনকে জানিয়েছেন, মার্কিন অবস্থানে হামলা চালানোর আগেই ইরাককে সতর্ক করে দেয় ইরানি কর্মকর্তারা। তবে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে তা জানায়নি তারা।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করে রাত একটা ৩৪ মিনিটে। পরে হামলা শুরুর আগে প্রায় ১৫ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। এছাড়া আরও দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

আল আসাদ বিমানঘাঁটি

ইরাকের অন্যতম বড় এবং পুরনো বিমানঘাঁটি আল আসাদ। আনবার প্রদেশের এই ঘাঁটিটিতে রয়েছে মার্কিন সেনাদের অবস্থান। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশটিতে আইএস এর শক্ত অবস্থান ছিল। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসন শুরুর পর আনবার প্রদেশেই সুন্নি উগ্রবাদের জন্ম হয়।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আল আসাদ বিমানঘাঁটি সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সফরে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে আসতে পেরে আমরা খুবই নিরাপদ বোধ করছি। পরের বছর ঘাঁটিটি সফর করে দেড়শো কর্মীকে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’র শুভেচ্ছা জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ