মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভুয়া সঞ্চয়পত্র দেখিয়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ॥ দম্পতি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে দুটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে আট কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এক দম্পতি। অবশেষে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার দুইজন হচ্ছেন- এইচ এম এ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ এবং তার স্ত্রী মরশিদা আফরীন।  সিআইডি জানায়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গত কয়েক বছরে ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে তারা টাকা আত্মসাৎ করেছে। গতকাল শনিবার সিআইডির সদর দফতরে এই তদন্ত সংস্থার ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। গ্রেফতার দম্পতিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘২০০৪ সাল থেকে একটি প্রতারকচক্র ২১ ভুয়া সঞ্চয়পত্র তৈরি করে এর বিপরীতে এবি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করে। এই ঘটনার সঙ্গে এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার তৎকালীন ম্যানেজার জড়িত ছিল।
এই দম্পতি ওই চক্রের সদস্য। তারা জালিয়াতি করে ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। তাদের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাবে জালিয়াতি করে উপার্জিত দুই কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছি। এছাড়া তাদের নামে গুলশান-২ এ প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৯ তলা বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির তথ্য পেয়েছি।
তিনি আরও জানান, ২০০৪ সালে জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাংকটি মামলা করে। তবে তখন থেকে পালিয়ে ছিল মোস্তাক। ওই মামলায় তার সাজাও হয়েছে। সে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে পালিয়ে ছিল। ২০১১ সালে গোপনে দেশে এসে আবার জালিয়াতি শুরু করে। ১৬ বছর ধরে পলাতক মোস্তাককে খুঁজছিল পুলিশ। ওই মামলায় এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের তৎকালীন ম্যানেজার আসিরুল হক গ্রেফতার হয়। ২০০৬ সালে সে তিন মাস কারাভোগ করে। পরবর্তীতে সে জামিনে মুক্ত হলে হৃদরোগে মারা যায়। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের আর কোনও কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি।
ব্যাংক থেকে ভুয়া সঞ্চয়পত্র দিয়ে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় দুদক ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় সাতটি মামলা করে। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে। সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির মূলহোতা একজন শিল্পপতি। ঢাকা স্টক একচেঞ্জে তার ব্যবসা ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই শিল্পপতির নাম গোপন রেখেছে সিআইডি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে তারা। ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎ করে সে ব্যবসা করে শিল্পপতি হয়েছে। তার পরিচয় পেয়েছে সিআইডি। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ