শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৯টি সি-১৩০ বিমানে আহত মার্কিন সেনাদের ইসরাইল ও জর্ডানে নেয়া হয়েছে -ইরানি জেনারেল

১০ জানুয়ারি, পারস : ইরাকে দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ইরান ‘ফতেহ-৩১৩’ এবং ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ‘ফতেহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে বিজয়ী এবং ‘কিয়াম’ মানে জাগরণ। ‘ফতেহ-৩১৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পাঁচশ’ কিলোমিটার আর ‘কিয়াম’-এর পাল্লা সাতশ’ কিলোমিটার। ইরানের আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান আমির আলী হাজিযাদেহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরেছি, তবে আমরা প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কয়েকশ’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম উভয় পক্ষ সংযম না দেখালে যুদ্ধ সীমিত পর্যায়ে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ চলবে। এ জন্য আমরা কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রেখেছিলাম।’

অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান জানান, মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ১৫ মিনিট পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। এর ফলে আমেরিকার ড্রোন ও বিমানগুলো কয়েক মুহূর্তের জন্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আর এ ঘটনায় মার্কিন সেনাদের মনোবল ভেঙে যায় এবং হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। ইরানের হামলায় আমেরিকার ‘আইন আল আসাদ’ ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

হাজিযাদেহ বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী সতর্ক ছিল, তারা হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল। এ কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগ পর্যন্ত আমেরিকার ১২টি বিমান ও ড্রোন সব সময় ইরাকের আকাশে নানা তৎপরতা চালাচ্ছিল। তারা আমাদের চপেটাঘাতের অপেক্ষায় ছিল। থাপ্পড় খাওয়ার পর তারা কিছুটা শান্ত হয়েছে।’

আমির আলী হাজিযাদেহ আরো জানান, ইরাকের দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। তবে আমরা চাইলে প্রথম ধাপেই পাঁচশ’ মার্কিন সেনাকে হত্যা করতে পারতাম। প্রথম ধাপের হামলাটি ব্যাপক সংখ্যায় মার্কিন সেনা হত্যার লক্ষ্য নিয়ে করা হয়নি। আমির আলী হাজিযাদেহ হচ্ছেন আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের প্রধান কমান্ডার। হাজিযাদেহ আরও বলেন, আমেরিকা যদি পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করতো তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের হামলায় চার থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারাতো।

ইরানের এই জেনারেল বলেন, “আমরা ‘শহীদ সোলাইমানি’ নামের যে অভিযান শুরু করেছিলাম তা ছিল একটি বৃহৎ অভিযান। এই অভিযানের কয়েকটি ধাপ ছিল। আমরা যদি অভিযান অব্যাহত রাখার প্রয়োজন অনুভব করতাম তাহলে তা গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তো।” পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্রই এই অভিযান চলতো বলে তিনি জানান।

হামলায় হতাহতদেরকে আমেরিকা নয়টি বিমানে করে ইসরাইল ও জর্দানে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। হাজিযাদেহ বলেন, হতাহতদের সরাতে সি-১৩০ বিমানও ব্যবহার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ