বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাসায় জাল নোটের কারখানা ॥ কোটি টাকার নোটসহ কারবারি আটক

গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডি এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি জাল টাকাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার এক বাড়িতে জাল নোটের কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার জাল নোটসহ সাইফুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। এ সময় টাকা তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে কাগজ, প্রিন্টার, টোনার, কেমিক্যাল ও ডায়াচ উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-১০। র‌্যাব -১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি কাইমুজ্জামান খান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকার একটা প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে একটি জাল টাকার চক্র কাজ করছে। তিনি বলেন, র‌্যাবের গোয়েন্দা দল চক্রটি ধরতে নজরদারি শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কদমতলী থেকে শাহ আলম নামের একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকালে পশ্চিম ধানমন্ডির ৭/ই’র ১০ নম্বরে সাইফুলের বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় বাসায় তল্লাশি করে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে সব ৫০০ ও ১০০০ হাজার টাকার নোট। এ সময় টাকা তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে কাগজ, প্রিন্টার, টোনার, কেমিক্যাল, ডায়াচসহ টাকা তৈরিতে যা লাগে সব পাওয়া যায়।
সাইফুলের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। তাই তাদের বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি বলে জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, চক্রের আরও সক্রিয় সদস্য র‌্যাবের নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে। যে টাকা পাওয়া গেছে সেটা অবশ্যই এক দুই কোটি টাকার ওপরে। গণনা না করে বলা যাচ্ছে না। সাইফুল ও শাহ আলম আগে গ্রেফতার হয়েছিল কি-না জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন নিশ্চিত না তিনি তারা এর আগে আটক হয়েছিল কিনা। তবে আমাদের যে অপরাধীর ডাটা বেজ আছে সেটা পর্যালোচনা করে বলা সম্ভব হবে।
সাইফুল যে মহল্লায় থাকেন ওই মহল্লার দোকানি আলতাফ হোসেন বলেন, লোকট কে ভদ্রই জানতাম। আসত যেতো গালভরা হাসি দিত। কখনও আমাদের কাছে জাল টাকার নোট দিতে দেখিনি। টেরও পাইনি। কিন্তু তিনি জাল টাকা বানান, কারবার করেন কখনও বুঝতেই পারিনি। ভবনটির তৃতীয় তলার যে ফ্ল্যাটে সাইফুল ভাড়া থাকতেন তার পাশের ফ্লাটে থাকেন বাড়ির মালিক। অভিযানের পর তিনি তাজ্জব বনে যান। তিনি বলেন, পাশের ফ্ল্যাটে এমন কাণ্ড কিন্তু এতদিন ধরে কিছুই টেরই পেলাম না। জানা গেছে, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দুই কক্ষবিশিষ্ট বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো সাইফুল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ