ঢাকা, শনিবার 15 August 2020, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইউক্রেনের বিমান দুর্ঘটনার পিছনে ইরানের হাত থাকতে পারে:ট্রাম্প 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের বিমান দুর্ঘটনার পিছনে ইরানের হাত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি বলেছেন ইরানই ভুল করে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।তবে, ইরান ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। তেহরান বিমান বন্দর থেকে এখনও বহু বিমান উড়ছে। 

এদিকে ইউক্রেন বিষয়টির তদন্তের জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে। সেদেশের ৪৫ সদস্যের একটি দল তেহরানে গিয়েছে। এ বিষয়ে কোনও দেশের কাছে নিশ্চিত তথ্য থাকলে তা তাদের জানানোর আবেদন করেছে ইউক্রেন। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার আঁচ ক্রমেই বাড়ছে। গত শুক্রবার বাগদাদে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মার্কিন ড্রোন হাম‌লায় নিহত হন জেনারেল কাসেম সোলেমানি ও আরও কয়েকজন।এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে মঙ্গলবার রাতে ইরাকে অবস্থিত দু'টি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দেয় ইরান।পরের দিন বুধবার তেহরান বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের এক যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৭৬ জন যাত্রীর।এরপরই আমেরিকা দাবি করে, ইরানই ভুল করে ওই বিমানটিকে ধ্বংস করেছে।

এদিকে, নিউজ উইক, সিবিএস ও সিএনন জানিয়েছে, উপগ্রহ, রাডার ও বৈদুতিক তথ্যও ইঙ্গিত করছে, ইরান নিক্ষিপ্ত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমার সন্দেহ রয়েছে। হয়তো বিমানটি কোনও স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। তখনই কেউ ভুল করে কিছু করে ফেলেছে। কেউ কেউ বলছেন বটে, প্রযুক্তিগত গণ্ডগোল। কিন্তু আমি তা মনে করছি না। কোনও বড় ভুল হয়েছে।'' এভাবেই নাম না করেও ইরানকেই ইঙ্গিত করেন ট্রাম্প।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও এই ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ইরান ওই বিমানটিতে হামলা চালিয়েছিল। প্রসঙ্গত, ওই বিমানে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন। ট্রুডো জানাচ্ছেন, গোয়েন্দা বিভাগের মতে, ইরানের ভূমি থেকে আকাশে ওড়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল বিমানটিকে।তিনি জানান, কানাডার নাগরিকরা এবিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং তাঁদের এর উত্তর চাই। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভ্রান্তিবশ্ত বিমানটিকে ইরান আক্রমণ করে থাকতে পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও এমন দাবি করেছেন। তাঁর মতেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিমানটি ধ্বংস হয়ে যায়।তবে তিনিও মনে করছেন, এই হানা ভুল করে করেছে ইরান।পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

তবে ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা কানাডাকে জানিয়েছে, এবিষয়ে কোনও তথ্য তাদের কাছে থাকলে তা জানাতে। ইরানের মন্ত্রী আলি আবেদজাদেহ বলেছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্ল্যাক বক্স থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রয়োজনমতো তথ্য যাচাই করতে ফ্রান্স বা অন্য কোনও দেশের সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ