সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনাসহ তিন শহরে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন

খুলনা অফিস : খুলনা, যশোর ও বরিশাল শহরে এডিবির সহযোগিতায় ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নেয়া এই উদ্যোগ ঝড়-বৃষ্টিতেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শহরকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দেবে। একই সাথে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম প্রজেক্ট ইন ওয়েস্ট জোন এরিয়া’।

জানা গেছে, সাংহাইসহ বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর আদলে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের জন্য এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল স্মার্ট প্রকল্পের অধীনে সিলেট শহরের দরগা গেট এলাকার সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সব তারের জঞ্জাল ও বিদ্যুতের খুঁটি। 

ফলে পুরো এলাকাটি পেয়েছে একটি ভিন্নরূপ। পুরো এলাকা এখন দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো শহর থেকে তার আর খুঁটি সরিয়ে নেয়া হবে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওজোপাডিকো। 

এই ২১ জেলায় বৈদ্যুতিক পোলের মাধ্যমে ওভারহেড লাইন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ করা হয়। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছপালা কিংবা বিলবোর্ড ভেঙে তারের ওপর পড়লে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অসংখ্য বৈদ্যুতিক পোল উপড়ে যায়। এর ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে লাগে দীর্ঘ সময়। এসব বিষয় বিবেচনা করে ওজোপাডিকো তিনটি শহরে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু বৈদ্যুতিক লাইনই নয়, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলোও হবে ভূগর্ভস্থ। 

ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. সাইফুজ্জামান জানান, খুলনা, যশোর ও বরিশাল তিনটি শহরে ‘ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এডিবির সহযোগিতায় গত ৮ ডিসেম্বর ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ সম্পন্ন করেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। খুলনা, যশোর ও বরিশালে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ করেছে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স ও টাটা পাওয়ার দিল্লি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। স্থানীয় পরামর্শক ইসিবিএল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য এখন সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩ বছর সময় লাগবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ