সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তেহরানে ইউক্রেনীয় বিমান বিধ্বস্ত ॥ নিহত ১৮০

সংগ্রাম ডেস্ক : ইরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ইউক্রেনের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮০ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে। বুধবার ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ওই উড়োজাহাজের সব আরোহী নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিহত ১৮০ আরোহীর মধ্যে ৮২ জন ইরানী, ৬৩ জন কানাডীয়, ১০ জন সুইডিশ, ৪ জন আফগান, ৩ জন জার্মান এবং ৩ জন বৃটেনের নাগরিক বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভাদিম প্রিসতাইকো।
কারিগরি সমস্যার কারণে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে ইরানের জরুরি বিভাগের প্রধান পীর হোসেইন কৌলিভান্দ বলেছেন, “আগুন অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় আমরা কোনো উদ্ধার কাজ করতে পারিনি। আমাদের ২২টি অ্যাম্বুলেন্স, চারটি বাস অ্যাম্বুলেন্স ও একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাস্থলে আছে।” ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র রেজা জাফরজাদেহি উড়োজাহাজটিতে ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু ছিল বলে জানিয়েছেন। তবে আলজাজিরা আরোহী সংখ্যা ১৮০ জন উল্লেখ করেছে। এয়ার ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের তথ্যানুযায়ী, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ফ্লাইট পিএস ৭৫২ এবং সেটি ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভে যাচ্ছিল। তিন বছরের পুরনো এই উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৩৭-এনজি মডেলের ছিল বলে জানিয়েছে তারা। এ দুর্ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে তাৎক্ষণিক আর কোনো তথ্য নেই বলে এয়ারলাইন্সটির কিয়েভ কল সেন্টার থেকে রয়টার্সকে জানানো হয়েছিল। বোয়িংয়ের এর মুখপাত্র গর্ডন জনড্রো জানিয়েছেন, ইরানে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলোর ওপর চোখ রাখছেন তারা এবং ঘটনাটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের এই ঘটনাটির সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানে বুধবার ১৮০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির কোন আরোহীই বেঁচে নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
গতকাল বুধবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমানটি। উড্ডয়নের পরপরই ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দ শহরে বোয়িং-৭৩৭ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, কাউকে জীবিত খুঁজে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে এ দুর্ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র রেজা জাফরজাদে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে বেসামরিক বিমান চলাচল দফতরের তদন্ত টিম পাঠানো হয়েছে। পরে এ ব্যাপারে আমরা আরও বিস্তারিত জানাবো।
বোয়িং-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে তারা সজাগ রয়েছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে বোয়িং।
অপরদিকে ইরানে ১৮০ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসী হামলার সংশ্লিষ্টতা উড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন। তেহরানে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাস জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কারিগরী ত্রুটির কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের বিমানটি। উড্ডয়নের পরপরই তা বিধ্বস্ত হয়। ১৮০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে এ দুর্ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিধ্বস্ত বিমানে কোনও ধরনের হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইউক্রেন। সূত্র : রয়টার্স, আইআরএনএ, আল জাজিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ