শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১১ দেশের প্রতিক্রিয়া

৮ জানুয়ারি, বিবিসি, ডেইলি মেইল, ডয়চে ভেলে : ইরানের মিসাইল হামলায় অন্তত ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন দেশ।

গতকাল বুধবার ভোররাতে ইরাকে দুটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি মিসাইল ছোড়ে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার শিকার হওয়ার কথা জানানো হলেও হতাহতের বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছুই বলা হয়নি।

এদিকে ইরাকি সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দুটি ঘাঁটিতে অন্তত ২২টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে।

ইরানের হামলায় বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া-

১. আরব আমিরাত : সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারশাল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তাপ কমানোর জন্য পারস্পারিক প্রতিশোধ নেয়া বন্ধ হওয়া দরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচিত সম্পূর্ণ অস্ত্র বিরতি পালন করা।

২. পোল্যান্ড : পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরানের হামলায় ইরাকে থাকা পোল্যান্ডের সেনাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এই হামলা নিয়ে দেশটির অবস্থান কোনো পক্ষে তা পরিষ্কার করেননি তিনি।

৩. যুক্তরাজ্য : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, ইরানকে বলবো, এ ধরনের বিপজ্জনক হামলা যেন তারা আর না করেন এবং দ্রুত যেন অস্ত্র বিরতিতে যান।

৪. ইরাক : ইরাকি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যে হামলা চালিয়েছে তাতে ইরাকের কোনো সামরিক সদস্য বা কোনো ইরাকি নাগরিকের ক্ষতি হয়নি। এর আগে কাসেম সোলাইমানির উপর মার্কিন হামলাকে বে-আইনি বললেও ইরানের হামলার বৈধতা নিয়ে ইরাক এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

৫. জাপান : জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে বলেছেন, উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে জাপান সব রকম সহায়তা করবে। তবে উত্তেজনার মধ্যে জাপান প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ওমান সফর বাতিল করা হয়েছে।

৬. অস্ট্রেলিয়া : ইরানের হামলার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ইরাকে থাকা অস্ট্রেলিয়ান সেনাদের সবাই নিরাপদে রয়েছে। ইরাকে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০০ সেনা রয়েছে।

৭. ফিলিপিন্স : ইরাকে থাকা ফিলিপিন্সের নাগরিকদের দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ইদুয়ারদো মেনদেজ বলেছেন, ইরাকে বর্তমানে সতর্ক সংকেত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সেখানে আর ফিলিপিন্সের নাগরিকদের থাকা সম্ভব নয়।

৮. পাকিস্তান : ইরাকি স্থাপনায় ইরানের হামলার পরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ইরাকে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তবে হামলার পক্ষে-বিপক্ষে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

৯. ডেনমার্ক : ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকে থাকা ডেনিশ সেনাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। দেশটিও হামলার পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করননি।

১০. ভারত : ভারতও হামলার বিষয়ে কোনো দেশের পক্ষ না নিয়ে ইরাকে থাকা দেশটির নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরী কাজ ব্যতীত ইরাকে গাড়ি ভ্রমণ না করারও পরামর্শ দিয়েছে।

১১. নিউজিল্যান্ড : মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলার প্রেক্ষিতে নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার উভয় দেশকে অস্ত্রবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন দুই দেশের অস্ত্রবিরতি পালনের সময়।

ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাগদাদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। গতকাল বুধবার ইরানের হামলার পর কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল জোনাথন ভ্যান্স এক টুইট বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বলছে, ইরাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কানাডার নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান জোনাথন ভ্যান্স। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সৈন্য মোতায়েন রেখেছিল কানাডা।

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আক্রান্ত হওয়ার পর কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জোনাথন ভ্যান্স টুইট বার্তায় বলেছেন, সতর্কতা হিসেবে ইরাক থেকে সাময়িকভাবে ৫০০ সৈন্য কুয়েতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা ইরাক পরিস্থিতি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছি। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ইরাকে প্রায় ৪০০ ব্রিটিশ সৈন্য আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।

এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান তীব্র উত্তেজনায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি ও সামরিক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বুধবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের যুদ্ধ কিংবা উত্তজনা চায় না তেহরান। আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, অল ইজ ওয়েল। ইরাকে অবস্থিত দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখন ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের তথ্য মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, ভালো হয়েছে! বিশ্বের যে কোনও স্থানে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী আছে!

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালের দিকে তিনি ইরানের এই হামলার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন বলে টুইটে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ দৈনিক বলছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আইন আল আসাদ এবং কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালালে দেশটির মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও ইসরাইলের হাইফায় বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশি সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইরানি শীর্ষ এই সেনা জেনারেল হত্যাকা- ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। এর মাঝেই বুধবার ইরাকে মার্কিন দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরাকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। ইরানি কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহতের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ইরাকের পার্লামেন্টে বিদেশি সেনাদের বহিষ্কারের বিল পাস হওয়ার পর নিজ দেশের সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে জার্মানি।

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরাক থেকে সেনা সরানোর কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকের পার্লামেন্টে বিদেশি সেনাদের বহিষ্কারের বিল পাস হওয়ার পর দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বার্লিন। এক্ষেত্রে একসঙ্গে সব সেনা প্রত্যাহার না করে ধীরে ধীরে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, ইরাকের সার্বভৌম সরকারের যে কোনও সিদ্ধান্তের প্রতি বার্লিন সম্মান জানায়। এজন্যই দেশটি থেকে আমাদের সেনাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হলে সেখানে পুনরায় আইএস-এর মতো সংগঠনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টির দিকেও নজর দেওয়া দরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীতে জার্মান বাহিনীর ৪১৫ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ইরাকে মোতায়েন করা রয়েছে ১২০ জন। এই ১২০ জনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ