ঢাকা, মঙ্গলবার 14 July 2020, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ইরান

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ইরাকের মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘এইন আল-আসাদের’ ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানায়, বুধবার ভোররাতে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ঘাঁটিটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাসেম সোলাইমানির উপর আগ্রাসী মার্কিন সেনাদের সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক হামলার কঠোর জবাব দিতেই এ অভিযান। অভিযানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘শহীদ সোলাইমানি’।

অপরদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও জানিয়েছে, তাদের দুটি ঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলেছেন, ইরাকের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবরের ব্যাপারে আমরা সচেতন রয়েছি। প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং তিনি গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ও জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

তবে, এই হামলায় মার্কিনীদের ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এর আগে, মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পর আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার পর প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অল ইজ ওয়েল! (সব ঠিক আছে)। স্থানীয় সময় পৌনে ১০টার দিকে টুইটারে আরো একবার নিজের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কথা স্মরণ করিয়ে দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, সব ঠিক আছে! ইরাকে দুটি সেনাঘাঁটিতে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এখন হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হবে। এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালোই চলছে। আমাদের আছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সেরা অস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী। আগামীকাল সকালে আমি একটি বিবৃতি দেব।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি আবার কোনো ‘শয়তানি’ করা হয় কিংবা কোনো আগ্রাসন বা উসকানি চালানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে ওয়াশিংটনকে এর চেয়ে ‘বেদনাদায়ক’ ও ‘বিপর্যয়কর’ জবাব দেয়া হবে।

একইসঙ্গে বিবৃতিতে আমেরিকার যেসব মিত্র দেশ তাদের ঘাঁটিগুলোকে এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে দেশের ভূমি থেকেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে সেই দেশকে শত্রু দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে তার ওপরও আক্রমণ চালানো হবে।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ৬ জানুয়ারি সোমবার সকালে যখন জেনারেল সোলেইমানির মরদেহ ইনকিলাব চত্বরে পৌঁছায় তখন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয় তেহরান। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত এ জেনারেলের জানাজা নামাজের নেতৃত্ব দেন।

এরপর এ হত্যাকাণ্ডের ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেয়ার ঘোষণা দেন খামেনি। প্রতিশোধ নেয়ার পণ করেছেন ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহর প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহও।অন্যদিকে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করা হলে ইরানের ওপর আরো হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ