বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ইব্রাহিম খলিল ফিলোবাস

সাবেক কপ্টিক খ্রিষ্টান ধর্মযাজক
ইব্রাহিম খলিল নামটি খুবই সুন্দর। কাউকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো বা একবাক্যেই বলে দিবেন তিনি একজন মুসলমান। হাঁ তাই হওয়ার কথা ছিল, কেননা ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যে পাঁচজন মহান রাসূলের (উলুল আজম) কথা কোরআন আমাদের অবগত করেছে, তাদের মধ্যে হযরত ইব্রাহিম আঃ এর নামটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। তবে ইব্রাহিম খলিল ফিলোবাস জন্মগতভাবে কোন মুসলিম পরিবারের সন্তান নন। তাই তিনি কোন মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠার সুযোগ পাননি ফলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কেও তার জানার কোনো সুযোগ ছিল না। তার জন্ম হয়েছিল কোন এক মিশরীয় খ্রিষ্টান পরিবারে, সেখানেই তার শিশুকাল, বাল্য কাল কাটায়। এমনিভাবে সেখানে তার বেড়ে উঠা। আর রক্ষণশীল খৃষ্টান পরিবারে বেড়ে উঠার অর্থ হল স্বীয় খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া এবং যথারীতি গির্জায় উপস্থিত হওয়া। তার যাত্রা সেখানেই থেমে থাকেনি বরং তিনি তার প্রিয় ধর্মকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার নিমিত্তে একজন কপ্টিক খৃষ্টান ধর্মযাজকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার চিন্তা-চেতনা ছিল কিভাবে তার ধর্মের আরও বিকাশ ও মজবুতি অর্জন করা যায়।
আমরা জানি মিশর একটি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র। যদিও সেখানে অন্যান্য ধর্মের অনেক লোকের বসবাস রয়েছে। ফিলোবাস নিজ দায়িত্বের অংশ হিসেবে, ধর্মযাজক ফিলোবাস তার পার্শ্ববর্তী মুসলমানদেরকে স্বধর্মে দীক্ষিত করার লক্ষ্যে ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। উদ্দেশ্য একটাই ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দোষত্রুটি খোঁজে তার মাধ্যমে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে স্বধর্মে দীক্ষিত করা। তিনি তার উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা শুরু করলেন জোরে শোরে।।
লক্ষ্যে পৌঁছার উদ্দ্যেশ্যে ফিলোবাস প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ধর্মতত্ত্বে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তবে তার এই অধ্যয়ন ও গবেষণা তাকে জীবন নদীর অন্য বাঁকে নিয়ে চলে। ইসলামের সৌরভ তাকে বিমােহিত করে তুলে। নিজের মধ্যে কেমন এক শূন্যতা অনুভব হতে থাকে। অন্যমনস্ক অবস্থায় প্রায়ই তার গবেষণালব্ধ জ্ঞাণ তাকে অন্য জগতে দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে চলছে অন্য কোন এক অজানা ঠিকানায়। এই দোদুল্যমান অবস্থায় কেটে যায় আরও কিছুদিন।
ফিলোবাস আল কোরআন অধ্যয়ন ও গবেষণা করার ফলে তার মনে হয় “আল কোরআন হচ্ছে কালোত্তীর্ণ বাণী” । এর শব্দসমূহ আশ্চর্যজনক, যেন কতো পরিচিত ও সাবলিল। অথচ ইতিপূর্বে আমি যতকিছু পড়েছি তা অন্য কোন পড়ার সাথে এর কোন মিল নেই, আর তা অত্যন্ত সহজ-সরল এবং সুস্পষ্ট। এ যাবৎকাল জীবনের উদেশ্য কী আমার কাছে এক রকমের রহস্য বলে মনে হতো। আমার একটা বিশ্বাস সবসময় ছিল যে, অবশ্যই এসব কিছুরই একটা মাষ্টার” ডিজাইনার আছে কিন্তু কে সে তা অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তা। । ফিলোবাস বলেন, আমি দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মমত খুঁজে খুঁজে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি। কিন্তু কোথাও তৃপ্তি পাই নাই। একটা মাঝিবিহীন নৌকার মতো যেন আমি চলছিলাম। আর যখন আমি কোরআন পড়লাম, তখন মনে হলো যেন আমি এরই জন্য সৃষ্টি হয়েছি এবং এটা মনে হলো যে আমার জন্য মহাগ্রন্থ আল কোরআন একান্ত প্রয়োজন।
এমনিভাবে পরবর্তীতে দীর্ঘদিন আমি কেবল কোরআন অধ্যয়ন ও গবেষণা করতে থাকি। সে সময়ে কোন একজন মুসলমানের সাথেও আমার দেখা হয় নাই। আমি আল কোরআনের বাণী দ্বারাই সম্পূর্ণ প্রভাবিত হয়ে পড়লাম। বুঝতে পারলাম যে, শীঘ্রই আমাকে হয় সম্পূর্ণরূপে ইসলাম ধর্মের নিকট আত্মসমর্পণ করতে হবে। এটা ছিলো আমার প্রিয় অথচ জীবনের কঠিনতম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
সবশেষে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেললাম। তবে সেটা করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। এক স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে ছিল তাদের সুখের সংসার। সর্বপ্রথম তিনি তার স্ত্রীকে মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা জানালেন। তিনি ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী শুনে তার স্ত্রী হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। উপায়ন্তর না দেখে তার স্ত্রী বিষয়টি গির্জার প্রধান (সুইজারল্যান্ডের নাগরিক মসিয়ার শাভিটস) কে অবগত করে তার সাহায্য প্রার্থনা করলেন। মসিয়ার শাভিটস ছিলেন খুবই ধূর্ত প্রকৃতির একজন লোক। গির্জা প্রধান মাসিয়ার ফিলোবাসকে তার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা নির্দ্বিধায় খুলে বললেন।
মসিয়ার শাভিটস কিছুটা সাবধান করার ভঙ্গিতে ফিলোবাসকে বললেন, তোমার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে না জানা পর্যন্ত তোমাকে চাকরিচ্যুত করে রাখা হবে। তার কথায় কর্ণপাত না করে ফিলোবাস নিজেই চাকরি ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। গির্জা প্রধান তারপরও তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে মুসলমান হওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার চেষ্টা করেন। সব চেষ্টাই যখন বৃথা যেতে লাগল, উপায়ান্তর না দেখে মাসিয়ার তখন ফিলোবাস পাগল হয়ে গিয়েছে বলে অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন।  ফিলোবাস কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। নিজেকে তখন তার খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। অবশেষে ভেবেচিন্তে কিছু না পেয়ে ফিলোবাস আসওয়ান শহর ছেড়ে রাজধানী কায়রোতে চলে আসেন। সেখানে তিনি এক স্বনামধন্য অধ্যাপকের শরণাপন্ন হন। আমি একজন মুসলমান’ -যদিও তিনি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেননি এই কথার ভিত্তিতে অধ্যাপক তার সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই এই কঠিন পরীক্ষা উত্তরণে তাকে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সাহায্য করলেন। ডঃ মুহাম্মদ আবদুল মুনেম আল জামালই ছিলেন সেই অধ্যাপক, যিনি মিশরের তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইসলামের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। তিনি চেয়েছিলেন কোরআনকে অনুবাদ করে তা আমেরিকায় পৌঁছিয়ে দিতে। ফিলোবাস যেহেতু আমেরিকার ইউনিভার্সিটি থেকে এম. এ. ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে সক্ষম তাই অধ্যাপক জামাল তার সেই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে ফিলোবাসের দ্বারস্থ হলেন। কোরআন, বাইবেল ও তাওরাত সম্পর্কে তুলনামূলক অধ্যয়নে ফিলোবাস বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। তার এই জ্ঞান তাদের তুলনামূলক অধ্যয়ন ও কোরআন অনুবাদে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল। ফিলোবাসের চাকরি ছেড়ে আসওয়ান থেকে চলে আসা ও বেকার থাকার কথা জানতে পেরে অধ্যাপক জামাল তাকে কায়রোর স্ট্যান্ডার্ড স্টেশনারি কোম্পানিতে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেন। যা তাকে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছিল। ফিলোবাস আগে থেকেই জানতেন যে ইসলাম গ্রহণের জন্য তাকে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছলতাসহ অনেক জটিল পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই তিনি স্থির করেছিলেন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শেষ হলে ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করবেন।
১৯৫৫ সালের কথা, ফিলোবাসের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দিন এসে গেল, তুলনামূলক অধ্যয়নের কাজ শেষ হলো এবং স্বচ্ছলতা দ্বারে এসে কড়া নাড়ল। আগের সেই কর্মরত কোম্পানি থেকে ফিলোবাস পদত্যাগ করে স্টেশনারি ও শিক্ষা সামগ্রী আমদানির একটি প্রশিক্ষণ কার্যালয় খুলে বসলেন, যা তাকে দারুণভাবে স্বাবলম্বী করে প্রতিষ্ঠিত করল। অতঃপর নিজের সংকল্প অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। অধ্যাপক জামাল ফিলোবাসের ঢেকে পড়া সত্যিকার কাহিনী শুনে বিস্ময়ে অভিভূত হলেন।
১৯৫৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর ফিলোবাস কায়রোতে অবস্থিত আমেরিকান মিশনের প্রধান ডঃ থম্পসনকে টেলিগ্রাম মারফত তার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে অবহিত করেন। ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারির এক শুভ মুহূর্তে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। ফিলোবাস থেকে নাম পরিবর্তন করে তিনি এখন ইব্রাহিম খলিল আহমাদ নাম গ্রহণ করেন। আনুষ্ঠানিক ঘােষণার পর তিনি নতুনভাবে পরীক্ষার সম্মুখীন হন।
সাবেক কর্মস্থল মিশনের সাতজন সাবেক সহকর্মী তাকে অনেকভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তারা খলিল আহমাদকে স্ত্রী চলে যাওয়ার ভয় দেখান। এর প্রতি উত্তরে সে তাদেরকে বলেছিলেন তিনি (স্ত্রী) এখন মুক্ত, যেখানে খুশি যেতে পারেন। তারা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ তারা খলিল আহমাদের এক পুরনো বন্ধু ও মিশন সহকর্মীকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান করে। সে এসে তার কাছে অনেক কান্নাকাটি করে। খলিল আহমাদ তখন তাকে পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মায়েদার ৮৩-৮৪ নাম্বার আয়াত দুটি পাঠ করে শুনালেন। যার অর্থঃ যখন তারা এই কালাম শোনে, যা রসূলের ওপর নাযিল হয়েছে, তোমরা দেখতে পাবে, সত্যকে চিনতে পারার কারণে তাদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠ। তারা বলে ওেঠ, “হে আমাদের রব আমরা ঈমান এনেছি, সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে আমাদের নাম লিখে নাও।” তারা আরো বলে, “আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান কেনো আনবাে না এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে তাকে কেনো মেনে নেবাে না- যখন আমরা এই ইচ্ছা পোষণ করে থাকি যে, আমাদের রব যেনো আমাদের সৎ ও সত্যনিষ্ঠ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেন।”
সেই সহকর্মী তারপরও অনেক কান্নাকাটি করে, খলিল আহমাদ তাকে শান্তনা দিয়ে বললেন, আপনার উচিত কোরআন শোনার পর আল্লাহর ভয়ে কান্না করা এবং সত্যকে মেনে নেওয়া। আপনি সেটা জেনেও তা অস্বীকার করছেন। সব চেষ্টা বিফল হওয়ায় তার সহকর্মী সেখান থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং চলে গেলেন। সেই দুঃসহ অবস্থায় খলিল আহমাদকে ছেড়ে তার স্ত্রী বাসার যাবতীয় আসবাবপত্র নিয়ে চলে গেলেন। তবে ভাগ্যই বলতে হবে, সকল সন্তানরাই বাবার সাথে থেকে গেল এবং ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে তারা প্রত্যেকেই নিজেদের নামও পরিবর্তন করলেন। বড় ছেলে আইজাক থেকে ওসমান, দ্বিতীয় ছেলে সামুয়েল থেকে জামাল ও একমাত্র মেয়ে মাজিদা থেকে নাজওয়া নাম গ্রহণ করে মুসলমান হিসেবে পরিচিত হলেন।
বড় ছেলে ওসমান এখন প্যারিসের সরবন ইউনিভার্সিটির অরিয়েন্টাল স্টাডিজ এবং সাইকোলজির অধ্যাপক, সে সাথে ‘লা মদে’ প্রত্রিকায়ও লেখালেখি করেন। জোসেফ একজন ফারমাকলজিস্ট, জামাল ইঞ্জিনিয়ার এবং নাজওয়া বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশুনা করছেন।
খলিল আহমাদের স্ত্রী কয়েক বছর পর খ্রিষ্টান ধর্মে থেকেই পুনরায় তার স্বামী নওমুসলিম ইব্রাহিম ফিলোবাসের নিকট ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এতে তিনি বাধা দেননি, কারণ ইসলামে কোনো জবরদস্তির স্থান নেই। সে তার স্ত্রীকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, তাকে খুশী করার জন্য ইসলাম গ্রহণের প্রয়োজন নেই বরং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট হলেই যেন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী এখন নিজেকে মুসলমান ভাবতে শুরু করেছেন যদিও তিনি পরিবার ও সমাজের ভয়ে তা এখনো প্রকাশ করেননি। তার সন্তানরা সালাত আদায় করেন, রমযানে সিয়াম সাধনা করেন তাদের সাথে তার স্ত্রীও। সিয়াম সাধনা করেন।
খলিল আহমাদ মুসলমান হওয়ার সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ইসলাম ও তার প্রচারের উপর বেশ। কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এখন তিনি ধর্মগ্রন্থের আলোকে নারীর মর্যাদা নিয়ে একটি বই লিখছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত সভা-সেমিনারে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে। ইবরাহীম খলিল আলোকপাত করে থাকেন।
তিনি বলেন, আমাদের সর্বপ্রথমে দৃষ্টি নিবন্ধ করতে হবে তাকওয়া-খোদাভীতির প্রতি। আমাদের উচিত ইসলামের আহকামের উপর পুরোপুরি আমল করে, ভবিষ্যতের দায়িত্ব আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া। অতপর। তিনি হজ্বব্রত পালন করেন। পবিত্র কোরআন এবং নবীজির জিবনী পড়েই ইসলামের উপর তার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ্ এক, তার সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি শুধুই আল্লাহর বান্দাহ বা দাস, অন্য কারো নয়। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, যখন একজন ব্যক্তি নিজেকে এক আল্লাহর দাস হিসেবে মনে করবে, তখন সে বহু সত্তার দাসত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত ভাববে, আর সেটাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ