সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুমেক হাসপাতালের রোগীরা চরম ঝুঁকিতে

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগের ধনী-গরিব সকল পর্যায়ের মানুষের নিরাপদ ও বিপদমুক্ত স্থান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যেখানে সামান্য রোগ হলেই ছুটে আসেন নিরাপদ ভেবে। অথচ সেই স্থানটিই বড় বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে রোগীদের জন্য। খুলনা ফায়ার সার্ভিস একাধিকবার বললেও কর্ণপাত করেননি কর্তৃপক্ষ। বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছেন খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। 

৬ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে ৬৩টি স্থানভিত্তিক হ্যাজার্ড রয়েছে। এত বড় হাসপাতালের নেই অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা। হাসপাতালটির প্রথম তলায় রয়েছে গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগ, অর্থোপেডিক্স বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, এক্স-রে বিভাগ, আল্ট্রাসনো বিভাগ, সিটি স্ক্যান বিভাগ, পোস্ট অফিস, অগ্রণী ব্যাংক, ডাক্তার কক্ষ, পুলিশ কক্ষ, ক্যান্সার বিভাগ, আইসিইউ ভবন, গাইনি বিভাগ, রান্নাঘর স্টোর, মানসিক বিভাগ, প্রিজন সেল, ইমারজেন্সি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ভায়া কক্ষ, আউটডোর, টিকিট কাউন্টার, জেনারেটর কক্ষ, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, পাম্প মেশিন, ডেড বডি হাউস, এম আর ক্লিনিক, অক্সিজেন প্লান্ট, ডাক্তার কক্ষ। অথচ এতোগুলো বিভাগ থাকলেও অগ্নি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে রয়েছে একটি মাত্র ডিসিপি এক্সটিংগুইসার।

একই চিত্র প্রথম এবং দ্বিতীয় তলায়। তবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেই। অথচ যেখানে প্রতিটি তলায় থাকার কথা পর্যাপ্ত এক্সটিংগুইসার, হোজ রিল, পর্যাপ্ত পরিমাণে ওয়াটার রিজার্ভার, ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষপ্রাপ্ত জনবল, হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা, ডিটেকশন সিস্টেম, ম্যানুয়াল কল সিস্টেম, ফায়ার এলার্ম, বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা, ফায়ার লিফট, স্ট্রোব লাইট, বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা, সেফটি লবি। ঝুঁকিতে থাকা হাসপাতালটির বিপরীতে গত জুন মাসে সি, ও২ ফায়ার এক্সটিংগুইসার ক্রয় করেন মাত্র ১০টি আর এ, বি, সি এক্সটিংগুইসার মাত্র ১০০টি।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রমতে, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ গত বছর ১৪টি ঝুঁকির কথা এবং পরামর্শ দিলো তার মাত্র একটি আংশিক পূরণ করতে সক্ষম হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। অথচ সরোজমিনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এ এক্সটিংগুইসারগুলো সবই লাগানো হয়েছে হাসপাতালের পরিচালক এবং ডাক্তারদের কক্ষের সামনে। যা রোগীদের কোনো কক্ষে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ আগুন ধরলে এ সকল অসুস্থ রোগীরাই বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রমেজা বেগম বলেন, এ হাসপাতালে যে অবস্থা তাতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকি। কারণ এখানে আগুন ধরলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। আর আতঙ্কে বেশি লোক মারা যাবে। অন্যান্য হাসপাতালে দেখা যায় নামেমাত্র কিছু ফায়ারের সরঞ্জাম। এখানে তাও নেই। অর্থাৎ যদি আগুন ধরে স্বজনরা এ সকল অসুস্থ রোগীদের নিয়ে কিভাবে বের হবে এমন কোনো পথ নেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আসলেই ভয়াবহ। তবে আমরা কিছুটা কিনেছি। আরও কিছু পর্যায়ক্রমে কিনব। তবে এতদিন পর কেন এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসলে বড় ধরনের কোনো পণ্য ক্রয় করতে পারি না। এজন্য মন্ত্রণালয়ের শরণাপন্ন হতে হয়। এজন্যই নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক এসএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে এবং এটা সত্যিই ভয়াবহ বিষয়। তিনি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে আমরা একটি দরপত্র আহ্বান করি এবং যাতে সি, ও ২ ফায়ার এক্সটিংগুইসার ১০টি আর এ, বি, সি এক্সটিংগুইসার মাত্র ১০০টি ক্রয় করা হয়। খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং তদন্তকারী মো. সাইদুজ্জামান বলেন, আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজে তদন্ত করি এবং যাতে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে। আমরা নির্দেশ দেয়ার পরেও এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে কেন ফায়ারের সরঞ্জামগুলো  কেনা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ