ঢাকা, শুক্রবার 14 August 2020, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

হুমকি ও পাল্টা হুমকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: এলিট ফোর্সের একজন শীর্ষ জেনারেল তথা দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধের ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান।দেশটির সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ৫২টি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোন আমেরিকান ব্যক্তি বা সম্পত্তির ওপর আঘাত এলে ওইসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় একের পর এক টুইটার বার্তায় ইরানকে এমন হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর সিএনএন’র

শনিবার কাসেম সোলেইমানির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়ে এক শোক মিছিল বের করে এবং "আমেরিকার মৃত্যু চাই" বলে শ্লোগান দিতে থাকে।

কুদস বাহিনীর প্রধান হিসেবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের কৌশলগত অপারেশনের নেতৃত্ব দিতেন কাসেম সোলেইমানি।

তাকে হত্যা করায় আমেরিকার বিরুদ্ধে 'বড় ধরনের প্রতিশোধ' নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। 

দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কাউন্সিল বলেছে, ‘সঠিক সময়ে এবং সঠিক জায়গায়’ এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কাউন্সিলের ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, তবে আমেরিকানদের জীবন বিপন্ন হলে চুপ করে থাকবে না। এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, স্রস্টার উদ্দেশ্যে তার যাত্রা, তার পথ বা মিশনকে থামাতে পারবে না, অপরাধীদের জন্য কঠোর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে যারা তার এবং অন্য শহিদদের রক্তে হাত রাঙিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া চিঠিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভাঞ্চি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে তেহরানের। রেভ্যুলিউশনারি গার্ডসর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরীফ বলেন, দখলদার ইহুদিবাদী এবং অপরাধীদের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা হবে আরো ব্যাপক। যেহেতু গার্ড বাহিনী নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে এবং অনেকেই সোলেইমানির উত্তরাধিকার বহন করতে আগ্রহী।

তেহরানের প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যম মানুষের জমায়েত সমাবেশ সরাসরি দেখিয়েছে যেখানে ধর্মীয় নেতারা অন্যান্য মুসল্লিদের আশ্বাস দেন যে স্রষ্টার জন্য শহিদ হিসেবে মৃত্যু হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ। সেজন্য মহান ব্যক্তিরা প্রাকৃতিক কারণ যেমন ক্যানসার, দুর্ঘটনা বা বার্ধক্যে পৌঁছে মৃত্যুর চেয়ে শাহাদতবরণকে অধিক শ্রেয় মনে করেন।রেভ্যুলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এর এলিট ইউনিট কুদস ফোর্স সরাসরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে জবাবদিহি করত। সেখানে এর নেতৃত্বে থাকা সোলেইমানিকে বীরত্বপূর্ণ জাতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হতো। তিনি ইরানের যুদ্ধ থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব রাখতেন।

জেনারেল কাসেম সোলেইমানির জানাজায় যোগ দিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি অপারেশনের দেখভাল করতেন সোলেইমানি। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষজন ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে এবং স্লোগান দেয়, ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’। শহরের অনেকগুলো রাস্তা জুড়ে মিছিল চলে। তাদের অনেকের হাতে ছিল সোলেইমানি এবং ইরানের আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি। তার মৃত্যুতে কয়েকদিন ধরে শোক পালন করছে ইরান ও ইরাকের সমর্থকরা। পরবর্তীতে তার মৃতদেহ ইরানে নিয়ে নিজ শহরে দাফন করা হবে।

ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র বিরোধিতা করেছে ডেমোক্রেট শিবির। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবে, ডেমোক্র্যাটদের এমন আশঙ্কার পর ট্রাম্প শনিবার একের পর এক টুইট বার্তায় এমন হুঁশিয়ারি দেন।

সোলাইমানিকে সন্ত্রাসী নেতা উল্লেখ করে টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘অসংখ্য আমেরিকানকে হত্যা এবং আহত করার জন্য দায়ী এমন সন্ত্রাসী নেতাকে হত্যার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে আমেরিকার সম্পত্তিকে টার্গেট করে খুব উঁচু স্বরে কথা বলছে...’।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ