রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রত্যেকে ভালো মানুষ হলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব -ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে দ্যা স্কলার্স ফোরামের উদ্যোগে কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দের সাথে কৃতি শিক্ষার্থীদের একাংশ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, পৃথিবীতে ততোদিন সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি সম্ভব নয় যতোদিন নৈতিকতা না আসবে। আর ততোদিন নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় যতোদিন ভালো মানুষ নেতৃত্বে না আসবে। আমরা প্রত্যেকে ভালো মানুষ হলে একটি অসাম্প্রদায়িক সুন্দর দেশ গড়া সম্ভব হবে।

গতকাল বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে দ্যা স্কলারস ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তোমরা অনেক প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে এখানে এসেছ। এই সফলতা তোমাদের এখানেই যেন থেমে না যায়। পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছে তারা একসময় তোমাদের মতই শিশু ছিল। আজকে পৃথিবীতে মানুষ খেতে পায় না। বাংলাদেশেও ৪০ শতাংশ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। তাদের কথা ভাবতে হবে। তাদের কথা যে ভাববে সেই প্রকৃত মানুষ।

ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, কিছু জিনিস দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে,বাধাগ্রস্ত করছে পারিবারিক মূল্যবোধকে, পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, নৈতিকতা হারিয়ে যাচ্ছে।পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ধারণ করলেই আধুনিক হওয়া যায় না বরং নিজেদের শিক্ষাকে ও আদর্শকে লালন করেও আধুনিক হওয়া যায়। দিনে দিনে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মা দিবস পালন হচ্ছে, বাবা দিবস পালন হচ্ছে কারণ মা-বাবা, সন্তান  এসব বন্ধন থেকে সরে আসছি আমরা। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী বরকত আলী বলেন, নিথর, নিস্তব্ধ ও চিন্তাহীন ভবিষ্যৎ এ তিনটি শব্দ আমাকে হতাশ করে দিচ্ছে। কাকে ধরব, কাকে মারব এ চিন্তায় সমস্ত বিশ্ব মশগুল। সমাজ একটি সম্মিলিত কর্মের ফসল। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে সার্বিক কল্যাণ হয়। তিনি বলেন, যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারাই শিক্ষানীতি পরিবর্তন করে যা যুগোপযোগী নয় বরং স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে যা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। আমাদের রাষ্ট্র বলে আমরা এখনো শিশু। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে শিশুর বয়স ৪৮ হয়ে গেছে। কোনো উন্নত দেশই তাদের অবস্থার উন্নতি করতে ৪৮ বছর লাগায়নি।

কাজী বরকত আলী আরো বলেন, দ্যা স্কলার্স ফোরাম যে কাজ করছে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে, আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। আজকে কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। ছোট বয়সেই মানুষের ক্ষতি করা শিখে যাচ্ছে। এসব বাবা-মায়েদেরই দেখতে হবে। বাবা মায়ের দায়িত্ব সন্তানকে এসব থেকে ফিরিয়ে রাখা। বাবা মাকেই খেয়াল রাখতে হবে সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে। বুয়েটে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।ঢাবিতে ডাকসুতে এক ছাত্রকে পেটাচ্ছে আরেক ছাত্রই। বাবা মায়েদের এটা বুঝতে হবে। নৈতিক শিক্ষা আমরা দিতে পারি নাই। বাবা মায়েদের উচিত শিশুদের সব সময় পজেটিভ মোটিভেশন করা। সব বিষয়ে শুধু ‘না’ উচ্চারণ না করে কী করলে কী হবে, কী সমস্যা হবে সেটাই বুঝিয়ে বলা।

দ্যা স্কলারস ফোরামের ভাইস-চেয়ারম্যান ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দুষ্টের লালন হচ্ছে সৃশিষ্টের অবহেলা হচ্ছে। দেশে শিক্ষা ও মেধার কদর নেই। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকা গিয়ে শুনেছি, আগে নাসায় ভারতীয়রা বেশি কাজ করত। এখন সেখানে বাংলাদেশেরও অনেকে ভালো অবস্থানে কাজ করছে। এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু দেশে কদর না পেয়েই তো তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে। মেধাগুলো বিদেশে চলে যাচ্ছে এটা খারাপ খবর।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দ্যা স্কলারস ফোরামের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান, কোষাধক্ষ্য আবুল খায়ের, অফিস সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক শেখ এনামুল কবির, রেজাউল হক রিয়াজ,তোফাজ্জেল হোসেন, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ হাওলাদারসহ ফোরামের সদস্যগণ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, রাজধানীর দুটি কেন্দ্রে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক হাজার পাঁচশত ছত্রিশ জন শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ১৫১ জন শিক্ষার্থীদের আজ বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট,সনদ ও ইংরেজী নববর্ষের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ