সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিদ্যুৎ খাতে অযৌক্তিক সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমানো গেলে দাম বাড়ানো লাগবে না

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যুৎ খাতে অযথা ব্যয় কমালে আর দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সরকার বার বার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে আর বোঝা ছাপছে মানুষের উপর । অথচ অযৌক্তিক ব্যয় কমালে আর দাম বাড়ানো প্রয়োজন হবে ন। ইতোমধ্যে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। বিইআরসি গণশুনানী শেষ করছে। এখন আদেশের অপেক্ষায়। 

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে বিদ্যুৎ খাতে ১০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকার অযৌক্তিক ব্যয় রয়েছে। এটা কমানো গেলে ঘাটতি মোকাবেলা সম্ভব।

ক্যাবের বক্তব্য, কৃষি সেচে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ দেয়া হয়। এতে বিদ্যুত খাতের ঘাটতি হয় চার হাজার কোটি টাকা। এই চার হাজার কোটি টাকা, এই টাকা আবার গ্রাহকের কাছ থেকে তুলে নেয়া হয়। ভর্তুকির কথা বলে আবার গ্রাহকের কাছ থেকেই সরকারের সেই টাকা তুলে নেয়া অযৌক্তিক।

কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে অনেক কাজ করছে। কিন্তু কিছু কিছু কাজে সমালোচনা হচ্ছে। এরমধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি অন্যতম। অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিইআরসিকে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি। সেই প্রস্তাব বিবেচনায় নিলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বদলে কমানো সম্ভব। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে মোট অযৌক্তিক ব্যয় ১০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। এই ব্যয় সমন্বয়ে পাইকারি ও খুচরা বিদ্যুতের দাম এবং সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্যাবের বিদ্যুত ও জ্বালানি সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান ও গবেষণা কমিশনের সভাপতি এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, বার বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। এখন বিইআরসির কাছে দাম বৃদ্ধির অযৌক্তিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শহরে যেভাবে বিদ্যুত পাওয়া যায় গ্রামে একইভাবে পাওয়া যায় না। অথচ দাম একই।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান ও গবেষণা কমিশনের সদস্য বদরুল ইমাম বলেন, অপরিকল্পিত ব্যয়বহুল আমদানি করা জ্বালানির কারণে বাড়ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ। বাংলাদেশের উচিত সাশ্রয়ী জ্বালানির যোগান দেয়া, যাতে করে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

সুপারিশে বলা হয়েছে, বিদ্যুত এবং জ্বালানি খাতে অলস পড়ে আছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। আর ভোক্তার দেয়া অর্থে বিভিন্ন তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ৮০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে তহবিল গঠন করে উন্নয়ন কাজ করতে হবে।

সূত্র জানায়, যৌক্তিক ব্যয় এবং চাহিদার চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। যে বিনিয়োগ আসলে সরকারের কোন কাজে আসছে না। উৎপাদন পর্যায়ের অতিবিনিয়োগের কারণে ধুঁকছে বিদ্যুত খাত। এরপর দেশে বিদ্যুত সঞ্চালনের জন্য মানসম্মত সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ তিন জায়গার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে ভোক্তা প্রতিনিধিসহ সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়। যদিও এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি বিইআরসি। ক্যাব বলছে, আমরা আবারও একই দাবি করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ