মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কমলগঞ্জে গণধর্ষণের শিকার ২ নারী ॥ আটক ৭ 

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া চা বাগান এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ নারী যাত্রী। তাদের একজন ২৮ বছর বয়সের অন্যজনের বয়স ২৪। শুক্রবার রাতে ৮টায় গণধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযানে বের হয়ে শনিবার ভোর ৫ টা পর্যন্ত ৭ আসামিকে আটক করেছে। ধর্ষণের শিকার ২ নারী বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে এবং গণধর্ষণের শিকার দুই নারীর জবানবন্দিতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ৮টা দিকে গনধর্ষণের শিকার এই দুই নারী মৌলভীবাজার শহরের পৌর পার্ক থেকে কমলঞ্জের মুন্সিবাজার যাবার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিক্সায় ভাড়া করেন। তাদের সাথে ছিল ৩ বছরের একটি শিশু। সিএনজি অটোরিক্সাটি কিছু দূর যাওয়ার পর আরো ২ জন যাত্রী গাড়িতে তুলে। তখন এই দুই নারী বাঁধা দিলে চালক জানায় তার পরিচিত এরা সামনে গেলেই নেমে যাবে। পরে কমলগঞ্জ যাওয়ার পথে দেওরাছড়া চা বাগানের এক নির্জন যায়গায় যাওয়ার পর তাদেরকে গণধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সাথে আরো ৭ থেকে ৮ জন পাষন্ড যোগ দেয়।  এক নারীকে ৭ জন মিলে এবং অন্য নারীকে দুইজন মিলে গণধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারীর ৩ বছর বয়সী বাচ্চাটিকেও মারধোর করে। ধর্ষণ শেষে এই দুই নারী কৌশলের আশ্রয় নেন। তারা চালককে বলেন যা হবার হয়েছে এবার আমাদের দিয়ে আসেন। চালক তাদেরকে নিয়ে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। জেনেছি তার নাম ইউসুফ মিয়া তার বাড়ী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বনশ্রী। পরে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মী এবং পুলিশকে জানান। তিনি আরো জানান, গণধর্ষণের শিকার এক নারী তাকে জানিয়েছেন এই ড্রাইভারকে নিয়ে তারা এর আগেও এসেছেন। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম এর দেয়া এক প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়, ঘটনার পর পুলিশের তথ্য প্রাপ্তির ৬ ঘন্টার মধ্যে সাত আসামীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশফাকুজ্জামান এর নেতৃত্বে ও কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা মৌলভীবাজারের শ্রীগবিন্দপুরের সিরাজুর ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫), আকলু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২৭), মফিজ উদ্দীন এর ছেলে ইউসুফ আলী (৩৫), নিতেশ্বর গ্রামের কমরু মিয়ার ছেলে সলিম মিয়া (২৬), কমলগঞ্জের দেওরাছড়া চা বাগানের সবুজ উরাং এর ছেলে রবিলাল উরাং (২০), নিতাই মুন্ডার ছেলে বিকাশ মুন্ডা (২৩), কুরবান আলীর ছেলে আবু সুফিয়ান বাবুল (৪৫) কে আটক করে।   

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিমদ্বয়কে দেখতে যান মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, এই ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধিন আছে এখন পর্যন্ত ৭ জন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ