মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কলাপাড়ায় পর্যটকদের জন্য শীঘ্রই উন্মোচিত হচ্ছে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু 

কলাপাড়ায় পর্যটকদের জন্য শীঘ্রই উম্মোচিত হবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: কলাপাড়ায় খুব শীঘ্রই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বিকল্প পথে কুয়াকাটা সি-বীচ, পায়রা-বন্দর, তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন রুটে অতি সহজে দ্রুত যাতায়তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। বিকল্প এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে বালিয়াতলী পয়েন্টের আন্ধারমানিক নদীর উপর। পর্যটকদের সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, নাম না জানা হাজারো গাছের ভীড়ে অবিরাম দৃশ্য গঙ্গামতির চর, মনোলোভা-মন ভুলানো লাল কাকড়ার অবারিত বিচরণ, শুটকী পল্লী ভ্রমণ আরো অনেক সহজতর হবে। শেষ মুহূর্তের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে আরো সহজতর হবে সড়ক পথে কলাপাড়ায় অবস্থিত দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা-বন্দরের পণ্য খালাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও কলাপাড়ার বালিয়াতলী, লালুয়া, মিঠাগঞ্জ, ধুলাসার ও লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সুদৃঢ় ও মজবুত হবে। প্রায় একশো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুটি  ২০২০ সালের জুন মাসে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর কলাপাড়া উপজেলার অন্ধারমানিক নদীর বলিয়াতলী পয়েন্টে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় একশো কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। ১৩টি স্প্যানের উপর ৬৭৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুর শেষ ভাগের কাজ প্রায় শেষের পথে। 

বাবলাতলা বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদ মৃধা বলেন, মালামাল নিয়ে খেয়াঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ভোগান্তিতো আছেই। সেতুটি চালু হলে এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি আর পোহাতে হবেনা। কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন বিপু জানান, সেতুটি উন্মুক্ত হলে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন খুবই সহজযোগ্য হবে এবং পণ্য পরিবহনের খরচও  অনেকাংশেই কমে যাবে। বালিয়াতলী ইউনিয়নের সমাজ সেবক নূরুল কবির ঝুনু বলেন, সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষে উন্মুক্ত হলে পায়রা বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলসহ পর্যটনপল্লী গঙ্গামতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন পর্যটকদের জন্য সহজ হবে ও বন্দর ভিত্তিক সম্ভাবনা ও পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে বালিয়াতলীসহ পাচঁটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ অতি সহজেই জেলা-উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন পথে যাতায়াত করতে পারবে অতি দ্রুত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া ও রোগী নিয়ে খেয়া পারাপারের ঝক্কি-ঝামেলা আর পোহাতে হবে না। 

কন্সট্রাকশন ম্যানেজার ইন্দ্রজিৎ পাল জানান, এবছরের ৪ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। জোয়ার ভাটার সমস্যার কারনে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে একটু দেরী হচ্ছে। তাই কাজ শেষ করার সময়সীমা আরো এক বছর বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নান জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারনে যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে এবং অতি দ্রুত উদ্বোধন করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ