মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নতুন কৃষিপ্রযুক্তি কৃষকের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে

খুলনা অফিস : কৃষি উন্নয়নে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন যেমন দরকার, একইভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো সহজ ও সঠিকভাবে কৃষকের কাছে উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সোমবার খুলনার গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সম্মেলনকক্ষে ‘টেকসই কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যম’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় আলোচকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অওতায় কৃষি তথ্য সার্ভিসের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে। 

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, মানুষকে প্রভাবিত করতে গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষি মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই কৃষি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি ছোট ভুল তথ্য প্রচারের কারণে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার কৃষি ক্ষেত্রের সাফল্য যদি যথাযথভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা যায় তাহলে তরুণ প্রজন্ম কৃষিকাজে আকৃষ্ট হবে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদনেও গণমাধ্যম জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই’র ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা এবং বাংলাদেশ বেতার খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক মো. বশির উদ্দিন। স্বাগত জানান এআইএস এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এসএম ফেরদৌস এবং খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মামুনর রশিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি তথ্য সার্ভিস খুলনার আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার শেখ ফজলুল হক মনি। 

কর্মশালায় খুলনা, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলের সকল কৃষি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিওকর্মীসহ মোট ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

খুলনায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক কর্মশালা

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশন ও আইডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক উইই-এসএমএস প্রকল্পের স্থানীয় কর্মশালা সোমবার দুপুরে খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। 

কর্মশালায় নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার গৃহীত নীতিমালা, উদ্যোক্তাদের চাহিদা, সমস্যা ও তার সম্ভাব্য সমাধান, ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি, ব্যবসা দক্ষতা অর্জন, বিনিয়োগ দক্ষতায় আঞ্চলিক ভিন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ১৫ শতাংশই নারী। ২০১৯ সালে প্রথম ছয় মাসে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের বেশি। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী নারী উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে ১০ শতাংশ সুদ হারে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারের উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির সুফল পেতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উদ্যোক্তাবান্ধব করা প্রয়োজন। 

কর্মশালায় খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাসুদেব চক্রবর্তী, সাব্বির শওকত, আইডিই বাংলাদেশের ডাঃ বাবুলাল রায়সহ সরকারি বেসরকারি ব্যাংক ও দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা, নারী উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, এশিয়া ফাউন্ডেশন ও আইডিই বাংলাদেশ-এর কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ