মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বোরো বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা দিনাজপুরে শীতের প্রকোপে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দু’একদিনের মধ্যে দিনাজপুরের উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হঠাৎ জেঁকে বসা শীতে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শীতে দিন-মুজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছে। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য উদিত হলেও কমছেনা শীতের প্রকোপ। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে কুড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। দু’দিন থেকে ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। শীতে সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বয়স্ক মানুষ।ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। হাসপাতালে বেড়ে চলেছে শিশু ও বয়স্ক রোগী সংখ্যা। হঠাৎ শীতে শ্রমজীবি মানষের বেড়েছে চরম দূর্দশা। ঠান্ডার কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না তারা । হতদরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও রাস্তায় যানবাহন চালাতে হচ্ছে হেড লাইট জ্বালিয়ে। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, দু’একদিনের মধ্যে দিনাজপুরের উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সরকারিভাবে জেলা, উপজেলা প্রশাসন,বিজিবি, ট্রাই ফাউন্ডেশন,চ্যানেল আই দর্শক ফোরামসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু এলাকায় গরম কাপড় বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায়ে শীত বস্ত্র এসেছে এবং তা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়েছে। ঠান্ডার কারণে হাসপাতাল গুলোতে শিশু ও বৃদ্ধ ভর্তি হচ্ছে। এদিকে কৃষি ফসল বিশেষ করে- শীতকালীন সবজি ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে বোরো বীজতলায় ঠান্ডার কারণে চারাগুলো বড় হতে পারছে না। কৃষক সাধারন ঠান্ডা থেকে বীজতলা রক্ষা করতে না পারলে বোরো রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়বে কৃষক। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান- চলতি বোরো বীজতলা তৈরির মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জন হয়েছে ৯৬৫ হক্টের। এর মধ্যে হাইব্রিড ২৩০ হেক্টর, উপশি ৯৮০ হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মল্লিকা সেহনবিশ জানান- শীতে বীজতলা ভালো রাখতে ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্লক অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রোকৌশলী রেফাউল আজম জানান- সরকারিভাবে কম্বল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। 

প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের আয়োজনে ও পিইডিপি-৪ এর অর্থায়নে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে ৬ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সনদ বিতরণ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর সুমন চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে রিসোর্স সেন্টারের হলরুমে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, প্রশিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, পতœীচাঁদ স:প্রা: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম (বুলু)। আলোচনা শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মাঝে সনদ ও সম্মানী বিতরণ করেন শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম। ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর বলেন, বাংলা বিষয়ে পাঠদানে দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ