মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় ৯০% কিন্ডারগার্টেনের রেজিস্ট্রেশন নেই

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর অলিগলিতে পাড়া-মহল্লায় সড়কে-মহাসড়কে চলাচলের সময় চোখে পড়বে বাহারি সাজে বিভিন্ন প্যানা ফেস্টুন বা সাইন বোর্ড। দেখা যায় ভর্তি চলিতেছে বিজ্ঞপ্তি। ইংরেজি বাংলায় হরেক নামের অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নাম। এ সকল স্কুল প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চহারে ভর্তি ফি, মোটা অঙ্কের মসিক বেতন নিয়ে রমরমা ব্যবসা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যক্তি বিশেষ মর্জি মাফিক পরিচালিত হচ্ছে অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল। কোনো শিশু প্রথম শ্রেণিতে পড়াশুনার আগে প্লে-নার্সারি ও কেজি এই তিনটি ধাপ’র জন্য শিশুদের তিন বছর লাগে। তবে সেখানে পাঠাদান করানো হয়ে থাকে। তবে এ সকল শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। সে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে মাস শেষে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নামমাত্র সম্মানি। অথচ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

সোনাডাঙ্গা বয়রা চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের শিক্ষিকা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমি এখানে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত। বেতন পাই ৩০০০ টাকা। তবে ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত সময় কয়েকটা শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। তার থেকে কিছু বাড়তি আয় দিয়ে চলে।

নগরীর মুজগুন্নি লাইফ লাইন স্কুলের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করবার শর্তে বলেন, বেতন যা পাই সেই সেই টাকা দিয়ে আমার বাড়ি থেকে স্কুলের আসার খরচও হয় না। শুধুমাত্র স্কুলের বাইরে শিক্ষর্থীদের টিউশনি করিয়ে বেশ কিছু টাকা পাই। তা না হলে এত কম বেতনে টাকার চাকরি কেউ করে?

খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনুসন্ধানে দেখা যায়, খুলনায় প্রায় ৯০ ভাগ কিন্ডারগার্টেনের কোনো অনুমোদন নেই। বাকি সবগুলো কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শুধুমাত্র আবেদন ফরম জমা দেওয়া আছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার নিয়মনীতির কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে এসব প্রাইভেট স্কুলের পরিচালনা কমিটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি বা স্কুলের কোনো পদবি বানিয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের রমরমা ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন কতিপয় ব্যক্তি।

সোনাডাঙ্গা শেখপাড়া সৃজনী শিশু বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. কাহারুল বলেন, ভর্তি ফি ৩০০০ টাকা এবং মাসিক বেতন ১০০০ টাকা দিয়ে তার সন্তানকে পড়ানো হয়। তারপরও ক্লাসে কোচিং এর জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা দিতে হয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নগরীতে যে সকল কিন্ডারগার্টেন ¯ু‹ল আছে তার অধিকাংশের নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। এছাড়াও নগরীর খালিশপুরের বেগম সামছুন্নাহার শিশু নিকেতন, সোনামনি কিন্ডারগার্টেন, গোল্ডেন কিন্ডারগার্টেন, জাহানাবাদ ইংলিশ স্কুল, লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন, স্বরলিপি কিন্ডারগার্টেন, পাখি কিন্ডারগার্টেন, মরিয়ম কিন্ডারগার্টেন, আদর্শ শিশু শিক্ষালয়, মুন লাইট কিন্ডারগার্টেন, সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন, আইডিয়াল ন্যাশনাল স্কুল, আভা শিশু শিক্ষালয়, কম্বাইন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল, ইসলামিয়া ক্যাডেট স্কুল, ডেলফি কিন্ডারগার্টেন, অংকুর বিদ্যাপীঠ, জননী কিন্ডারগার্টেন, গ্রীনলাইফ ইন্ট. স্কুল, আস্থা কিন্ডারগার্টেন, পরশমণি শিশু শিক্ষালয়, কলকাকলী শিশু শিক্ষালয়, মনমোহিনী শিশু শিক্ষালয়, সৃজনী কিন্ডারগার্টেন, পদ্মকুড়ি কিন্ডারগার্টেন, চাইল্ড হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেন, রোজডেল ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, রোজভেলী ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ এবং সাউথ হেরাল্ড ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, জসিম উদ্দিন কিন্ডারগার্টেন, আনন্দ নিকেতন কিন্ডারগার্টেনসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়’র শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল আলম বলেন, সরকারি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ কোনো প্রাইভেট স্কুল চালাতে পারবে না। খুলনায় প্রায় অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন শুধুমাত্র আবেদন ফরম জমা দিয়েছে কোনো অনুমোদন নেই। তবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যে স্কুল পরিচালনা করবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ