বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

চাকরি নয় সুরাইয়া জীবন নিয়েই শংকা এখন 

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানোর দাবি জানাতে এসে নিজের জীবন নিয়েই এখন শংকায় পড়েছেন সুরাইয়া ইয়াসমিন নামের এক চাকরিপ্রার্থী। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা ছয় দিনের আমরণ অনশনে থেকে অসুস্থ হয়ে শুধু সুরাইয়াই নন, তার মতো আরো ৪/৫ জন শিক্ষার্থীও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জরুরি চিকিৎসা দিতে গত রোববার রাতে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এদের মধ্যে সুরাইয়া ইয়াসমিনের অবস্থা বেশি গুরুতর। মুখে কোনো খাবার নিতে পারছেন না তিনি। স্যালাইন দিয়ে খাবারের বিকল্প দেয়া হচ্ছে তাকে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে গত ৬ ডিসেম্বর থেকে গণঅনশন পালন করছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ। কিন্তু সরকার এই দাবির প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ না করায় অনশনকারীরা ১৭ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও দাবি শতভাগ মানা কিংবা বাস্তবায়নের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। তাই দেশের ২৮ লাখ শিক্ষিত যুবকের দাবির পক্ষে আমরণ অনশনে অংশ নিয়ে সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ ঘোষণা দিয়েছে, জীবন গেলেও তারা তাদের দাবি আদায়ে আর পিছপা হবেন না।

এদিকে, গত ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে অনশনে অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক সুরাইয়া ইয়াসমিন। গত তিন আগে প্রথমে তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু এর দুদিন পরেই গত রোববার বিকেলে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে সন্ধ্যায় তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় মেডিসিন বিভাগে নিয়ে আবারো ভর্তি করা হয়। তার শরীরের অবস্থা এখন তিনি দাঁড়াতেও পারছেন না।

গতকাল সোমবার দুপুরে সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সমন্বয়কারী মুজাম্মেল মিয়াজী জানান, আমরণ অনশনে আরো অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সুরাইয়া ইয়াসমিনের অবস্থা বেশি গুরুতর। এছাড়া উজ্জ্বল কুমার ও মোসাদ্দেক আলী রাসেল নামের আরো দুজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সরকার যদি আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে না নেয় তাহলে আমরা অনশন থেকে সরে আসবো না। আর এতে জীবন আমাদের থাক অথবা যাক। কেননা আমাদের এই দাবির প্রতি দেশের ২৮ লাখ যুবকের ও তাদের পরিবার ও স্বজনদের সমর্থন আছে।

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি ছাড়াও সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের আরো তিনটি দাবি রয়েছে। এগুলো হলো- চাকরিতে আবেদন করতে অযাচিতভাবে পে-অর্ডারের নামে অর্থ দাবি করা যাবে না এবং এই ফি ৫০ বা ১০০ টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষাসমূহ জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়োগ পরীক্ষাগুলো তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ