বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষ প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাচ্ছেন -সেলিম উদ্দিন

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মোহাম্মদপুর থানা পূর্বের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন -সংগ্রাম

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দেশে মৌসুমী শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সারাদেশের মত ঢাকা নগরীতেও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষ প্রচন্ড শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই আমরা শীতার্ত মানুষের দুর্দশা লাঘবে সীমিত সামর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছি। আশা করি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস শীতার্ত মানুষের দুর্দশা লাঘবে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। তিনি দুর্গত মানুষের সাহায্যে সরকার, সকল রাজনৈতিক দল, দাতা সংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আশার আহবান জানান। 

গতকাল সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা আয়োজিত শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জিয়াউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন থানা সক্রেটারি সৈয়দ মনজুর হোসেন ও জামায়াত নেতা মোস্তাক আহমদ প্রমূখ।

 সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে জেলাগুলোতে প্রচন্ড শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের দরিদ্র জনগণ ও শ্রমজীবি মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। আমাদের ঢাকা মহানগরীও এ থেকে আলাদা নয়। প্রচন্ড ঠাণ্ডার কারণে নগরজীবন ইতোমধ্যেই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অশ্রয়হীন ও ছিন্নমূল মানুষরা প্রচন্ড শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমতাবস্থায় শীতার্ত ও দুর্গত লোকদের মধ্যে শীতবস্ত্র সহ মানবিক সাহায্য বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের সাহায্যার্থে সক্ষম লোকদের বাড়ীবাড়ী গিয়ে তহবিল সংগ্রহ ও নিজ উদ্যোগে দুর্গত মানুষে কাছে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর জন্য সকল স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই নাগরিকদের সকল সমস্যার সমাধান করা হতো। মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য কাউকে হাত পাততে হতো না। আর মানুষ হয়ে মানুষের কাছে হাত পাতা মানবতার অপমান। জামায়াতে ইসলামী জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য সেই স্বপ্নের কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে। তিনি ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর পতাকাতলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

মহানগরী আমীর বলেন, আর্তমানবতার কল্যাণই হচ্ছে ইসলামের মূলনীতি। তাই তাই শীতার্ত মানুষের কল্যাণ সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য সকলকে বিশেষ করে বিত্তমান মানুষকে দানের হস্ত প্রসারিত করতে হবে। যার যতটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়েই বিপন্ন মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। পবিত্র কালামে হাকীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহ উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সূরা আল-হাদীদ, আয়াত : ১৮)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৬১)

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি স্থানীয় দরিদ্র ও শীত দুর্গত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ