বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

 

খুলনা অফিস : খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি আগামী ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্র্রতিমন্ত্রী এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে বৈঠক শেষে শ্রমিক নেতারা এ কথা জানিয়েছেন। 

শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে গত ১০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া অনশনের চারদিন পর ১৪ ডিসেম্বর সকাল থেকে একে একে সকল পাটকল উৎপাদনে যায়। ১৩ ডিসেম্বর রাতে খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে অনশন তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। ওই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনশন স্থগিত করে শ্রমিকরা। পরে ফের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ রোববারের বৈঠকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, রোববার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে বৈঠক হয়। বৈঠকে তিনি (শ্রম প্রতিমন্ত্রী) জানিয়েছেন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের লক্ষে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রয়েছে। যা আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন। তিনি নিজেও ঢাকায় অবস্থান করছেন শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য। যে কারণে শ্রমিক নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হবে। এই সময়ে যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর রবিবার থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু হবে। 

ঢাকায় অবস্থানরত খুলনার প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএ’র সভাপতি সাহানা শারমিন বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সিবিএ-নন সিবিএ নেতাদের সাথের বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেন। কথা ছিল এর মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে পাটকল শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন। পরে সিবিএ নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়ে বলা হয়, এর মধ্যে ১১ দফা বাস্তবায়ন না হলে ২৩ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন করা হবে। এর আগে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সামনে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে শ্রমিকরা প্যান্ডেল ঠিক রেখেইে ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে অনশন শেষ করে। এখনও প্রতিটি মিলের সামনে প্যান্ডেল ঠিক থাকায় সেখান থেকে বড় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তবে শুধুমাত্র মিলগুলোতে পাটের ট্রাক প্রবেশের জন্য সাইড থেকে কিছু জায়গা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া রিক্সা-ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানরত খালিশপুর জুট মিল সিবিএ’র সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধের পর গতরাতে ঢাকায় সিবিএ-নন সিবিএ নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সময় দেন। এর মধ্যে মজুরি কমিশনসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন না হলে শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) গেট মিটিং করে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করা হবে।

শ্রম অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সব মিলের হিসাব নেয়া হয়েছে সেহেতু সকল পাওনা পরিশোধ করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। রোববার রাতেও তিনি গণভবনে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। সরকারের এসব চেষ্টার ফলে শ্রমিকরা সোমবার থেকে আন্দোলনে যায়নি। তিনি আশাবাদী হয়ত দ্রুতই পাটকল শ্রমিকদের এ সমস্যা সমাধান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ