বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নতুন বছরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের  ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের

গতকাল সোমবার মতিঝিলস্থ ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

# আওয়ামী সরকারের কাছে বিচার না চেয়ে আন্দোলন করতে হবে -- রব

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন বছরে বৃহত্তর ঐক্য সংহত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল সোমবার জাতীয় ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এই প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন,  এবছরটা জঘন্যভাবে শেষ হচ্ছে। নতুন বছরে আমরা সবাই মিলে আমাদের বৃহত্তর ঐক্যকে সুসংহত করে জনগণের ঐক্যের ভিত্তিতে এই দেশকে বাঁচানোর জন্য যা করার সব কিছু আমরা করব, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।

ড. কামাল বলেন, মানুষ চায়- সংবিধানে যে ক্ষমতা দেয়া আছে, অধিকার দেয়া আছে সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করা। জনগন ক্ষমতার মালিক- এটা সংবিধানে লেখা আছে। আজকে কী জনগন সেই অবস্থায় আছে, তাদের ওপর নানা ধরনের আক্রমন চালানো হচ্ছে।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূরসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষন পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এজন্য ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে দায়ী করেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, এটা এতো লজ্জাস্কর একটা ঘটনা যে বছরের শেষে ছাত্রদের ওপরে এই ধরনের পুর্ব পরিকল্পিত আক্রমন চালানো হবে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। পেশী শক্তিকে এভাবে অপব্যবহার করে ছাত্র সমাজের ওপর এরকম আক্রমন করা যায় তাহলে নির্বাচিত নেতাদের ওপরে এরকম আক্রমন করা যায়- এগুলো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু ভবনে হামলার শিকার হন ভিপি নুরুল হক নূরসহ তার ১৫ জন সঙ্গী। হামলার সময়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীদের ততপরতা দেখা গেলেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কিংবা ছাত্র লীগ কেউই দলগতভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের অবস্থা নিয়ে সারাদেশের মানুষ গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছে। একদলীয় এক ব্যক্তির শাসনকে কেন্দ্রে করে তারা পুর্ণ ক্ষমতা নিয়ে এগুলো করে যাচ্ছে। অর্থাৎ সংবিধানের ওপর আজকে আক্রমন হচ্ছে যেখানে গণতন্ত্র সংবিধানের প্রতিশ্রুতি। আজকে কী গণতন্ত্র আছে এই প্রশ্নটা আমরা রাখছি, গণতন্ত্রের মধ্যে এগুলো করা যায় না। স্বাধীনতার নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তারা হত্যা করে যাচ্ছে।

ডাকসুর ভিপির ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত চান কিনা প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংবিধানে বলে যে, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তদন্ত হওয়া উচিত। মানে শুধু ঢাকার জন্য না, এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি সকল জনগন করে।

আসম আবদুর রব বলেন, ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি এদেশের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করার পরে বুয়েটে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হওয়ার পরে গত রোববার ডাকসুর ভিপির ওপর যে হামলা হলো এটা আওয়ামী লীগের চরিত্রের বর্হিপ্রকাশ। অর্থাৎ এর বিরুদ্ধে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার, পেশাজীবীদের সরকার, সমাজের সর্বস্তরের দলমতের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এই মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ বলছে। এদের বাবারও তো জন্ম হয় নাই একাত্তর সালে। কিসের মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ? আওয়ামী ছাত্রলীগেরাই এই হামলা(ডাকসুর ভিপি) করেছে। এই নিয়ে নূরের ওপর এ নিয়ে ৬ বার হামলা হলো। এই সরকারের কাছে বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই, এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন করতে হবে।

সকাল সাড়ে ১১টায়  মতিঝিলে নিজের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই বৈঠক হয়। ড. কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে জেএসডির আসম আবদুর রব, বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের আবু সাইয়িদ, মহসিন রশিদ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ