বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে

স্টাফ রিপোর্টার : দশটি বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকবেন দেশের খ্যাতনামা দশজন শিল্পী। আট ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে আঁকা সেসব ছবিতে উদ্ভাসিত হবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিটি ছবিতেই ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আঁকা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে। দেশের খ্যাতনামা গীতিকারের লেখা গানে রচিত হবে থিম সং। খ্যাতনামা শিল্পীর আঁকা লোগো ছড়িয়ে যাবে দেশ ও দেশের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য এ সব কিছুরই প্রস্তুতি চলছে। উদযাপন কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও থাকবেন বিদেশি অতিথি। তবে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে কারা আসছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পূর্তির মুহূর্তে এ অনুষ্ঠানটি হবে। ওই দিন থেকে শুরু হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠান। চলবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কাউন্ট ডাউন বা ক্ষণগণনা শুরু হবে ১০ জানুয়ারি (২০২০) থেকে। চলছে এ উপলক্ষে নানা ধরনের প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে সরকার গঠিত কমিটির বৈঠকে নানা বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। মুজিববর্ষ সফল করতে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় গঠিত আটটি উপকমিটি কাজ করছে। সেগুলো হচ্ছেÑ ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভা আয়োজন উপকমিটি, আন্তর্জাতিক কর্মসূচি যোগাযোগ উপকমিটি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজন উপকমিটি, প্রকাশনা ও সাহিত্য অনুষ্ঠান উপকমিটি, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা অনুবাদ উপকমিটি, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন উপকমিটি, মিডিয়া প্রকাশ ও ডক্যুমেন্টেশন উপকমিটি এবং চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র উপকমিটি।

জানা গেছে, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক বেসরকারি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ও বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সামঞ্জস্যের পাশাপাশি ভিন্নতাও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মসূচি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রস্তুতি চলছে। কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সেক্টরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ উপলক্ষে থিমসং ও লোগো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকেই কাউন্ট ডাউন শুরু হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্ট ডাউন বা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী শুরুর ক্ষণগণনা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা বিভাগ। জাতীয় কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগের গত সরকারের ১০ জন মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই মেয়র, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, দুজন সাবেক গভর্নর, বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত বাস্তবায়ন কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে প্রয়োজনীয় নীতি পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অনুমোদনের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কমিটিকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবে জাতীয় কমিটি। অন্যদিকে বাস্তবায়ন কমিটি সার্বিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন এবং জাতীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই আয়োজনে সব বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন ও পালন উপলক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতীয় সংসদ ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে– মুজিববর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে চৌদ্দ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার একটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্গঠিত উপকমিটিগুলো পৃথকভাবে কর্মসূচি প্রণয়ন করে ইতোমধ্যে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছে। উপকমিটি ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর থেকে কর্মসূচির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এসব  প্রস্তাব পর্যালোচনা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের নিরিখে তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ বিষয়গুলো সমন্বয় করে একটি বিষয়ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, বিভাগ ইতোমধ্যে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। কেন্দ্রীয় তদারকির বাইরেও জেলা উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ