বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা ও আজগুবি মামলা দেয়া হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোকে গুম, খুন, হত্যা এবং অসংখ্য মামলায় জর্জরিত করে প্রচন্ড বৈরী ও প্রতিকূল অবস্থায় ঠেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এই কথা বলেন। রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিটি কর্মকান্ডে সহিংস কায়দায় বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা ও আজগুবিমামলায় হয়রানী করা হচ্ছে। দেশের জেলা উপজেলায় আমাদের কাউন্সিল করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের শান্তপুর্ন সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। গণতান্ত্রিকভাবে মিছিল সমাবেশ করলে গুলী টিয়ার লাঠিচার্জ গ্রেফতার করা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকা শহরের অনেক সড়কে যান চলাচল বাধা দিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে দিনের পর দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা- সমাবেশ করছে। নিজেদের দলে কথিত গনতন্ত্র চর্চার নামে বিরোধীদল ও প্রতিপক্ষের গনতন্ত্রকে টুটি চেপে হত্যা করা হচ্ছে।

খালেদা জিযার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দখলদার আওয়ামী সরকার শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ও গনতন্ত্রের কন্ঠস্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়েকে কারারুদ্ধ রেখে বিনা চিকিৎসায় হত্যার চক্রান্ত করছে। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীর কি চিকিৎসা হচ্ছে এটি কেউ কিছুই জানতে পারছে না। একেতো সরকারের পূর্বের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত বদলে সরকারি দলের সমর্থক ডাক্তারদের দিয়ে তৈরি করে বানোয়াট রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে, তার ওপর বেগম জিয়ার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার শামীম ও ডাক্তার মামুনকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ বিনা চিকিৎসায় তার জীবনকে বিপন্ন করার কলা-কৌশল হচ্ছে কি না এজন্য জনগণ উদ্বিগ্ন। বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে একধরণের ‘মেডিকেল টেরোরিজম’ কায়েম করেছে সরকারের নির্দেশে বিএসএমএমইউ’র কর্তৃপক্ষ। আমরা বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, আপনারা আমাকে ছুটি দিবেন।’ ছুটি অন্যরা দিবে কেন ছুটি আপনি নিজেই নিয়ে নিতে পারতেন। আসলে আপনার এ সমস্ত কথা জনগণের সাথে ‘ডার্ক হিউমার’। রাজনীতি থেকে অবসরের কথা আপনি এর আগেও বলেছিলেন কিন্তু সে কথাও রাখেন নি। অর্থাৎ আপনি মুখে যা বলেন  অন্তরে পোষন করেন অন্যটি। জিঘাংসা ও ভোগবাদের মিলিত রুপ আপনার সরকার। সেখানে মানবতা আর ন্যায় বিচারের কোন বালাই নেই। দলীয় প্রধানের পদসহ দখল করা মসনদের প্রধান আপনি। সুতরাং আপনি আপনার কুক্ষিগত কোন পদ থেকে সরে যাবেন এটা পাগলেও বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক, মৌলিক অধিকার মানবাধিকার সব দলিত-মথিত করে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করা হয়েছে। সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে, ভোটাধিকার ডাকাতি করে, দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করে ক্ষমতাসীনরা কাউন্সিলে বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে জনগণের সাথে ঠাট্টা করেছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশের জনগন আশা করেছিলেন, এ দেশের গণতন্ত্র কিভাবে ফিরে আসবে, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কিভাবে ফিরে আসবে, খুন-গুম-হত্যা প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতি কিভাবে বন্ধ হবে এগুলো থেকে কিভাবে সরে আসবেন তার একটি ইঙ্গিতের প্রত্যাশা করছিল জনগণ। গোটা জাতির প্রত্যাশা ছিল যে, ২০১৪ সালের বিনাভোটে সরকার গঠন ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসম্বরের আগের রাতে ভোট ডাকাতির জন্য হয়তোবা তাদের অনুশোচনা হবে এবং গণতন্ত্র উত্তরণের একটা পথ দেখানো হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের জন্য কোনো দিকনির্দেশনা থাকবে। কিন্তু জাতি চরমভাবে হতাশ হয়েছে। কোন পথ কিংবা আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে এই কাউন্সিল। জাতিকে এই মিডনাইট সরকার যে গভীর সংকটে পতিত করেছে সেই সংকট উত্তরণের ইতিবাচক কিছু আসেনি। বরং শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাহেব সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দিনই ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে ছাত্রলীগ সমহিমায় আবির্ভূত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ করেছে, ছাত্রদের রক্তে রক্তাক্ত হয়েছে ক্যাম্পাস,  চালের দাম ও পেঁয়াজের দামি বৃদ্ধি পেয়েছে, বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশিদের হত্যার হিড়িক চলছে, বিচার বর্হিভূত হত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, অটো রিকশায় আবারও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই যুবতি, শেয়ার বাজারের নেমেছে আরও ধ্বস।

তিনি বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে তারা যে অপকর্মগুলো করে আসছে তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল এই কাউন্সিলে। তাদের নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যে ছিল একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের জয়ধ্বনী। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকায় খরচ করা এই কাউন্সিল জাতিকে আতঙ্কিত করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে দলের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ