বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে পারেনি রাষ্ট্রযন্ত্র

* ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীদের বিক্ষোভ

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে চার বছরে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে এককভাবে এটাই সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা। একটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য যাদের ওপর দায়িত্ব থাকে তারাই যে লুণ্ঠনকারী হয়ে উঠতে পারে তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি। দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আসার পর একে ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা হতাশাব্যাঞ্জক। ২০১৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন এই কেলেঙ্কারি নিয়ে ৫৬টি মামলা দায়ের করে। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের কাউকেই মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়নি। কেলেঙ্কারির হোতাদের  বিচারের আওতায় আনতে পারেনি রাষ্ট্রযন্ত্র। সর্বশেষ ডুবতে বসা বেসিক ব্যাংক বন্ধের হাত থেকে বাঁচাতে সকল কর্মকর্তাদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে চাকুরিরতরা। 

বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিল এবং  রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকের সব কর্মকর্তার বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি ব্যাংকটির সব শাখার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসিক ব্যাংক বিগত সাত বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানে থাকায় ২০১৩ সালের প্রবর্তিত ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদি বাতিল করা হলো। এই সিদ্ধান্ত গত রোববার (২২ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হলো। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিগত সাত বছর লোকসান হওয়ায় আগের মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের তুলনায় অত্যাধিক বেতন ভাতা চালু আছে বেসিক ব্যাংকে। এই অতিরিক্ত বেতন ভাতা ব্যাংকের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০১৫’ এর অনুরূপ কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, এই মুহূর্তে কর্মকর্তাদের বেতন কমানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ খোলা নেই। এখন ব্যয় কমানো ছাড়া ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের বেতনকাঠামো বহির্ভূত অন্যান্য সুবিধাদি পর্ষদের অনুমোদন ক্রমে প্রদান করা হবে। গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪৮৭ তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল সোমবার বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোতে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানে থাকার কারণে বিদ্যমান কাঠামোতে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বেসিক ব্যাংকের বর্ধিত বেতন কাঠামো বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে বেসিক ব্যাংকের বেতন কাঠামো হবে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের অনুরুপ। তবে কোনো কর্মকর্তা কত টাকা বেতন পাবেন তা ফিক্সেশন করার পর জানা যাবে। তবে ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে বেতন কমানোর নির্দেশনায় বেসিক ব্যাংকে কর্মী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে সেনা কল্যাণ ভবনে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। এসময় তারা এমডি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসিক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী বেতন কাঠামো দেখে আমরা নিজ যোগ্যতায় চাকরি নিয়েছি। এখন বেতন কমানো অযৌক্তিক, এটা লেবার ল’ অনুযায়ী বেআইনি।

তিনি জানান, আমরা যখন চাকরি নিয়েছি তখন আমাদের বয়স কম ছিল, সরকারি অন্যান্য চাকরিতে যাওয়ার একটি অবস্থা ছিল। আমাদের অনেক চাকরির অফার ছিল কিন্তু আমরা যাইনি। এখন আমাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অতিক্রম করেছে। এই অবস্থায় বেতন কমানোর মাধ্যমে আমাদের উপর অন্যায় করা হচ্ছে। এটি আমরা মানি না। আমরা এমডি’র কাছে জানিয়েছি। এমডি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

পর্ষদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে অপর এক কর্মী বলেন, বোর্ডের অদক্ষতা অযোগ্যতা আর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আমরা কর্মীরা কেন দায়ভার নেবো? আমরা কোনো অন্যায় করিনি, আমরা আমাদের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করছি। আমাদের বেতন কমানো অযৌক্তিক, অন্যায় ও অমানবিক। এটা আমরা কেন মানবো? নতুন নির্দেশনার বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার সকালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মীরা। তারা অবিলম্বে নির্দেশনা বাতিলের দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের বেতন কমানোর নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওইদিন বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ৩৫৪ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। মাত্র ৭২টা ব্রাঞ্চের জন্য এখানে প্রায় ২১০০ জনবল আছে। এত লোকের এখানে কী কাজ? অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা একদিকে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় বেতন বেশি নেন। অন্যদিকে ব্যাংক লোকসানে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতে পারে না। বেতন কমানো হবে। আপনারা কর্মকর্তারা সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেন। কীভাবে কত কমাবেন। সিদ্ধান্ত আমাকে জানান। এরপর আমি আমার সিদ্ধান্ত জানাব।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক। ইচ্ছেমতো হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি। কোনো আইন বা বিধিমালা নয়, বেসিক ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদই সর্বেসর্বা। এমনকি প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও পর্ষদ ঠিকই ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংকের অধিকাংশ ঋণই গুরুতর অনিয়ম করে দেওয়া হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনাও কম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে শুরু থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত  প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছে ১১ মাসে। ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, কার্যত ব্যাংকটির অধিকাংশ ঋণ বিতরণই হয় চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুসারে। 

পর্ষদের কা-কীর্তি: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে ব্যাংকের শান্তিনগর, গুলশান ও দিলকুশা শাখা থেকেই তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই গুরুতর অনিয়মের ঋণ। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, অধিকাংশ ঋণ মঞ্জুর, ঋণ নবায়ন এবং ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাবে শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে ঋণ যাচাই কমিটি সুপারিশ না করে পর্ষদের সিদ্ধান্ত বা দিকনির্দেশনার জন্য সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি সুস্পষ্টভাবে পর্ষদে দেওয়া স্মারকে নেতিবাচক মতামত দিয়েছে। কিন্তু পর্ষদ ঋণগুলো অনুমোদন করেছে। 

খলাপিকে ঋণ: ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের সিআইবি (ঋণ তথ্য) প্রতিবেদন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক হলেও ব্যাংক হালনাগাদ প্রতিবেদন এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সিআইবি প্রতিবেদনই না নিয়ে ঋণ অনুমোদন ও নবায়ন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। যেমন ওপিই প্রপার্টিজ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মিসেস সালমা হোসেন, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ওয়েস্টার্ন এন্টারপ্রাইজ, বিডি পাইপস অ্যান্ড পাওয়ার, সুরমা স্টিল অ্যান্ড স্টিল ট্রেডিং ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে সন্দেহজনক এবং মন্দ বা লোকসানি পর্যায়ের গ্রাহককেও ঋণ অনুমোদন এবং ঋণ নবায়নও করা হয়েছে। যেমন ভারনারেবল এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়েল সোয়েটার্স, মদিনা হার্ডওয়্যার স্টোর, সোহেল ট্রেডিং এজেন্সি, টোকিও এজেন্সি, টোকিও নিট গার্মেন্টস, ক্লাসিক একসেসরিজ ও আশরাফ আহমেদ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও আইন ভেঙে তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে।

সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই ঋণ: একেবারে নতুন গ্রাহক। কোনো ব্যাংকের সঙ্গে যার কোনো ব্যবসায়িক বা ঋণ সম্পর্ক তৈরি হয়নি, এমন গ্রাহক ঋণ পেতে বা পরিশোধ করতে পারে কি না, তা যাচাই না করেই ঋণ দেওয়া হয়েছে। যেমন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত সুরমা স্টিল অ্যান্ড স্টিল ট্রেডিংকে ৫৫ কোটি টাকা এবং মেসার্স আশরাফ আহমেদকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ব্যবসা শুরু করা এস অ্যান্ড জে স্টিলকে ৪০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। এমন আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হয়েছে। 

এদিকে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে চার বছরে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে এককভাবে এটাই সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি। একটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য যাদের ওপর দায়িত্ব থাকে তারাই যে লুণ্ঠনকারী হয়ে উঠতে পারে তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি। ব্যাংকটি লুণ্ঠন নিয়ে যতগুলো তদন্ত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই বলা হয়েছে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু আক্ষরিক অর্থেই পরিচালনা পর্ষদের সহায়তায় লুটপাট চালিয়েছেন।

২০১৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন এই কেলেঙ্কারি নিয়ে ৫৬টি মামলা দায়ের করে। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়নি। এতেই বোঝা যায় ক্ষমতাধর দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা অসহায়। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ব্যবস্থা বলতে ব্যাংকটির পাঁচ জন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। কিন্তু এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন যারা শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায়ের আদেশ তামিল করেছিলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারে কাছেও ছিলেন না তারা। কিন্তু এক সময়ের খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি ডুবতে বসলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সবাই। বেসিক ব্যাংক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতাার করে দুদক। এর মধ্যে আট জন ব্যবসায়ী, একজন সার্ভেয়ার ও ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের পাঁচ জন কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তাদের সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এখন কারাগারের বাইরে।

ঋণ কেলেঙ্কারির ৫৬ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া ও রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করতে না পারায় তদন্ত কর্মকর্তাদের তলব করে দুদকের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, এখন লজ্জায় চোখ ঢাকি। মনে হয় কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকি। আসামিদের সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যোগসাজশ প্রসঙ্গে বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম বলেন, আপনাদের নির্লিপ্ততার কারণে যেসব আসামি ভেতরে আছে তারা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাদের সাথে আপনাদের সখ্য আছে বলে মনে হচ্ছে। চার্জশিট দিতে দেরি করছেন, যাতে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়। আমরা তাদের জামিন দিতে বাধ্য হচ্ছি।

দুদককে ২০১৪ সালে এরকমই একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানি ও সন্দেহজনক একাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার বিবরণ তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তা প্রায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানা যায় ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন থেকে।

বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালকদের মধ্যে বেশিরভাগই এখন বিভিন্ন সরকারি দফতরের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করাও এখন দুদকের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালকদের মধ্যে একজন শুভাশিস। তিনি এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে বেশ কয়েকবার ডাকা হলেও তিনি সময় চেয়েছিলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের অফিসে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নয় বছর সময় নিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়েও রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ৫৬ মামলার কোনোটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  এ বিষয়ে ২০১০ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। চার বছর অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালে রাজধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে কমিশন।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ