সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা আদ্ব দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

কেরানীগঞ্জ থেকে এরশাদ হোসেন : মা ও শিশু, জেনারেল, সার্জারী ও চক্ষু রোগীর নির্ণয় করে ২০১২ সালে সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক রোগীদের সেবার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বসুন্ধরা আদ্ব দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিন কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় মনোরম পরিবেশে হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরুকরে। হাসপাতালটির চতুর্দিকে প্রাকৃতিক গাছ পালায় ঘেরা। হাসপাতালটিতে চিকিৎসার জন্য আসা রোগিরা প্রকৃতির প্রাকৃতিক দৃশ্য ও নিঃস্বাসেই রোগীদের অর্ধেক রোগ ভাল হয়ে যায় বলে জানান হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা। মাত্র আট বছরের মধ্যে হাসপাতালটি কেরানীগঞ্জ ছাড়া আশপাশের জেলার যেমন মুন্সিগঞ্জ ও নারায়নগঞ্জ জেলায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বসুন্ধরা আদ্ব দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে গরীব ও প্রান্তি রোগীদেও চিন্তা করে গর্ভবতি মায়েদের সেবা ও শিশু বিভাগ এবং জরুরী বিভাগ ২৪ ঘন্টা খোলা রয়েছে।  রয়েছে স্বপ্ল খরচে রোগীদের আনা নেওয়া করার জন্য জরুরী হাসপাতালের নিজেস্ব এ্যাম্বুলেন্স। কেরানীগঞ্জের যে কোন জায়গায় রোগী নিয়ে যাওয়া মাত্র ৩ শত ৬০টাকায় । হাসপাতালটি বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম (চীন মৈত্রী) সেতুর দক্ষিন প্রান্ত থেকে হেটে গেলে ১০ মিনিট আর রিক্সায় ২০ টাকা। হাসপাতালটি রাজধানীর ব্যস্তনগরীর অতি সন্নিকটে হওয়ায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ ব্যতীত মুন্সিগঞ্জ ও নারায়নগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা প্রতিদিন ভীর জমায় চিকিৎসা সেবা নিতে। হাসপাতালটিতে রয়েছে নিজেস্ব নিরাপত্তা কর্মি। তাদেও সিফটিং অনুযায়ী দিন-রাতে চলে ডিউটি। হাসপাতালটিতে রয়েছে শিশু বাচ্ছাদের জন্য উৎস নামের সপ। যেখানে শিশু খারার থেকে শুরু করে জামা কাপড় পাওয়া যায়। এখানে রাতে কোন মায়ের ডেলিভারী হলে নবাগত শিশুটির জন্য বাহির থেকে কোন কাপড় কিনতে হয় না। এখানেই সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়।

বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ ব্যবস্থাপক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান সুমন জানান,২০১২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী মা ও শিশু, চক্ষু, জেনারেল এবং জরুরী বিভাগ দিয়ে আমাদেও এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু করি। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে মেডিসিন, গাইনী, শিশু,ডেন্টাল, সকল প্রকার সার্জারী, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, অর্থপেডিক্স,প্লাষ্টিক সার্জারী ও ডায়াবেটিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। পাশাপাশি ঠোট কাটা, তালু কাটা ও আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে চোখের ফ্যাকো অপারেশন করা হচ্ছে। যা একটি সুবিধা বঞ্চিত রোগীর পক্ষে এই ব্যয় বহুল চিকিৎসা করাই সম্ভব না। সেখানে স্বল্প মূল্যে বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করে দিচ্ছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের হানপাতালটি সাধারন মানুষের কাছে পৌছে গিয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ সেবার আওতায় প্রদান করাই হচ্ছে বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজের মূল লক্ষ। এই হাসপাতালের সাধারন রোগীদের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে এর চাহিদা সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে রয়েছে। এছাড়া বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা মূল্যে চোখের ছানী অপরাশেন করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশী সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের ছানী অপরাশেন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের সিজার করাতে যেখানে অন্যান্য হাসপাতালে ২০ থেকে ২৫ হাজার খরচ হয় সেখানে বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকা-খাওয়া ও ঔষধসহ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় করে থাকেন। যা একাট গরীব রোগীর হাতের নাগালে রয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ, খরচ ও অন্যান্য সুবিধার জন্য  বর্তমানে গরীব রোগীর পাশাপাশি ধনীরাও চলে আসছে চিকিৎসা সেবা নিতে। তিনি আরো বলেন,স্বাস্থ সেবা প্রদানে হাসপাতাল বা ডাক্তারদের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সকল শ্রেনীর লোকজনকে স্বাস্থ সচেতনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

গতকাল বুধবার বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে হাসপাতালের চিকিৎসার মান ও সেবার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।  মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদি খান থানার খাসকান্দি ইউনিয়নের চাঁন্দের চর এলাকার মোঃ রাসেল জানান বসুন্ধরা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি তার ৬ মাস বয়সের শিশু সন্তানকে জ্বর ও ঠান্ডার চিকিৎসা করাতে এসেছে, তিনি বলেন এখানকার চিকিৎসার মান ও পরিবেশ খুবই ভালো এবং খরচও অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় খুব কম এবং এখানকার ডাক্তাররা অনেক দায়ীত্বশীল এবং মিশুক। যার কারনে আমি আমার পরিবারের সকল সদস্যদের যে কোন চিকিৎসার জন্য এখানে নিয়ে আসি। আমার একমাত্র সন্তান এই হাসপাতালেই সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহন করেছে। যদিও হাসপাতালটা আমার বাড়ি থেকে একটু দূরে তবু এখনকার নিরাপদ চিকিৎসা ও সুন্দর পরিবেশের কারনে আমি ও আমার পরিবারের সকলের জন্যে একটি আস্তার ঠিকানা হিসেবে হয়ে উঠেছেন এই হাসপাতালটি।    এদের মধ্যে আরেকজন  মোসাম্মৎ মানোয়ারা বেগম এসেছেন নারায়নগঞ্জ জেলার পাগলা এলাকা থেকে, তিনি এসেছেন তার ছোট বোন ও ভাগিনার বৌ কে নিয়ে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের নারায়নগঞ্জ জেলায় অনেক হাসপাতাল আছে। বেশকয়েক দিন আগে আমাদের এক প্রতিবেশি চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন এই হাসপাতালে । তার কাছ থেকে এই হাসপাতালের সেবার মান শুনেই আমি আমার ছোট বোন ও আমার ভাগিনার বৌকে নিয়ে এখানে এসেছি। তারা দুজনেই গর্ভবতী । আমরা এবারই প্রথম এই হাসপাতালে এসেছি, শুনেছি স্বল্প খরচে সকল ক্ষেত্রে ভালো মানের চিকিৎসা সহ খুব নিরাপদে মায়েদের ডেলিভারি জন্য খুব ভালো একটি প্রতিষ্ঠান। আজ প্রথম দিন এসে এখানকার পরিবেশ ও চিকিৎসার মান দেখে আমাদের ভালো লেগেছে। তাই আমার বোন ও ভাগিনার বৌ দুইজনকেই এখান থেকে চেকাপ করিয়েছি, তাদের চেকাপের যন্ত্রের আধুনিকতা ও পরিবেশ দেখে আমাদের ভালো লেগেছে। আশা রাখি এ হাসপাতাল থেকেই তাদের দুজনের ডেলিভারি করাবো।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জন থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর বাসি মোঃ ঈসমাইল হোসেন এসেছেন তার সর্দি কাশির চিকিৎসা ও তার স্ত্রী মোসাম্মাৎ নার্গিস বেগমের শরীর ব্যথার চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার দেখাতে তার সাথে আলাপ হলে তিনি জানান এখানকার ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার মান দুটোই খুব ভালো এক কথায় স্বল্প খরচে সকল রোগের ক্ষেত্রে উন্নত মানের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায়। তাই এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন তারা। তিনি আরো বলেন, এইন হাসপাতালের আসপাশে আরো দু’একটি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। তারা বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে রোগীদের সেবা করে থাকেন। কোন জটিল রোগী আসলে অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা করানো হয়। রাতে তেমন কোন চিকিৎসার সেবা তাতের নাই বলেই চলে। আর বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষনিক ব্যবস্থা রয়েছে। আমি এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আমি। এর চেয়ে বেশী কিছু বললে আবার মানুষ মনে করবে আমি হাসপাতালের পক্ষে সাফাই গাচ্ছি। আপনারা সাংবাদিক। আামাদের এলাকায় এসেছেন ঘুরে দেখেন, তারপর যাচাই করে বাছাই করে চিকিৎসান মান নিয়ে রিপোর্ট করেন। 

     কথা হয় গাইনী ও প্রসুতী বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ আরিফা জাহান সোমার সাথে, তিনি বলেন বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন হাসপাতালে দেড় বছর যাবত গাইনী ও প্রসুতী বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছি। এর আগে প্রায় আট বছর দেশে অন্যতম আরেকটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলাম, বাংলাদেশে আদ-দ্বীনের বড় বড় ৮ টি হাসপাতাল আছে,এ হাসপাতাল এগুলো  বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ডেলিভারি ও নারীদের গাইনী বিষয়ক রোগীদের ক্ষেত্রে  অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে।  বিশেষ করে বলা হয় বাংলাদেশের যতগুলো ডেলিভারী হয় সর্বোচ্চ ডেলিভারি হয় আদ-দ্বীন হাসপাতাল।  যা অন্য কোন হাসপাতালে এতো ডেলিভারি হয় না। বিভিন্ন চিকিৎসার মান নির্নয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে গাইনি চিকিৎসার দিক দিয়ে এখানকার কোন অংশে আমরা পিছিয়ে নেই। অন্যান্য বড় বড় হাসপাতালে যেসমস্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের যে সেবা, তাদের গর্ভকালীন যে সেবা, তাদের ডেলিভারি নিশ্চিত করা, শুধুমাত্র সাধারন ডেলিভারি বা নরমাল ডেলিভারি না আমরা এখানে অনেক ঝুঁকিপূর্ন মায়েদের বিশেষ করে যেগুলোকে আমরা কম্পলিকেটেট ডেলিভারি বলি সেই ডেলিভারি গুলো কিন্তু আমরা এখানে  করে থাকি। কেরানীগঞ্জ এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোর হাসপাতাল গুলোয় অনেক সময় রাতে ডেলিভারী হয় না সে সকল রোগীরা আমাদের এখানে চলে আসে বলেও তিনি জানান।  

  বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডাঃ মরিয়ম বেগম বলেন, আমি এই হাসপাতালে দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত কর্মরত আছি, রোগীর জন্য এখানকার পরিবেশ খুবই ভালো যা বিভিন্নস্থান থেকে আসা রোগীদের মুখেই শোনা যায়, আমরা এখানে যারা কর্মরত আছি সকলেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের এখানে বিশেষ করে যেসমস্ত নবজাতক  ভর্তি হয় তাদের মধ্য ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বাদে সবধরনে সাপোর্ট দিয়ে থাকি। আমাদের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে মোট ৪০টি বেড আছে। যার মধ্যে প্রায় ২৫টি বেডে সবসময় রোগী থাকে। এদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গসহ সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে প্রায় সকল রোগী আলহামদুল্লিাহ্ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।  

বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা.ওয়াহিদা হাসিন বলেন,বসুন্ধরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিবার। এটাই মনে সব সময় লালন করে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। আমি এই হাসপাতালে প্রথম থেকেই সেবা প্রদান দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছি। বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজের প্রতিটি কর্মিই রোগীদের আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করে থাকেন। কেরানীগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে উদত্ত আহবান থাকবে আমাদের এই হাসপাতালে আপনারা আসেন আমাদের সেবা গ্রহন করেন এবং আমাদের আরো উন্নত করার জন্য পরামর্শ দিয়ে জান। আপনাদের ভালবাসাই আমাদের শক্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ